নিজস্ব প্রতিবেদক ১৫ আগস্ট ২০২৫ , ৩:০৬:০৪ প্রিন্ট সংস্করণ
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের হাত ধরে গঠিত রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মাত্র আড়াই মাসের ব্যবধানে বড় ধরনের নেতৃত্ব সংকটে পড়েছে। ১ জুন থেকে ৩৩ জেলা ও প্রায় ২০০ উপজেলায় সমন্বয় কমিটি গঠনের পর থেকেই পদত্যাগের ঢল নেমেছে। আদর্শচ্যুতি, অনিয়ম, অযোগ্য নেতৃত্ব, না জানিয়ে পদায়ন এবং অন্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা—এমন নানা অভিযোগে অন্তত ২৬ জন নেতা পদত্যাগ করেছেন।
১০ আগস্ট এনসিপির ফরিদপুর জেলা সমন্বয় কমিটির সদস্য মো. রুবেল মিয়া ওরফে হৃদয় পদত্যাগপত্রে লিখেছেন— “দলের কর্মকাণ্ড ও অবস্থানগুলো জুলাই বিপ্লবের নীতি ও নৈতিকতার পরিপন্থী। বর্তমান পথচলা আমার ব্যক্তিগত আদর্শ ও মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।”
এর একদিন আগে শিবচর উপজেলা সমন্বয় কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী শাকিল খান ও তিন সদস্য—মো. রিয়াজ রহমান, মহিউদ্দিন এবং কাজী রফিক—পদত্যাগ করেন। অভিযোগ করেন, থানা পর্যায়ের নেতৃত্ব অযোগ্য ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে, ফলে ত্যাগী কর্মীরা বঞ্চিত হচ্ছেন।
৮ আগস্ট চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা সমন্বয় কমিটির ১ নম্বর যুগ্ম সমন্বয়কারী এ ইউ মাসুদ (আরফান উদ্দিন) অভিযোগ করেন, এক ব্যক্তির একক সিদ্ধান্তে কোনো আলোচনা ছাড়াই কমিটি গঠন হয়েছে।
১ আগস্ট শরীয়তপুর জেলা সমন্বয় কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মো. তারিকুল ইসলাম ও সদস্য মো. পলাশ খান ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন।
১৮ জুলাই ফেনীর সোনাগাজী উপজেলা কমিটি থেকে ইসমাইল হোসাইন ও ইঞ্জিনিয়ার আলাউদ্দিন পদত্যাগ করেন। ইসমাইল জানান, তিনি বিএনপি পরিবারের সদস্য; তাকে না জানিয়ে কমিটিতে রাখা হয়েছিল।
১২–১৪ জুলাই সিলেটের বিশ্বনাথ ও গোয়াইনঘাট উপজেলা কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী ও সদস্যসহ ছয় নেতা পদত্যাগ করেন একই অভিযোগে। ২০ জুলাই এ দুই উপজেলা কমিটি থেকে আরও চারজন নেতা পদত্যাগ করেন।
২৯ জুন চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলা কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী হেলাল উদ্দিন প্রধান সমন্বয়ককে ‘জাতীয় পার্টির নেতা ও আওয়ামী নেতাদের সহযোগী’ আখ্যা দিয়ে পদত্যাগ করেন।
২৫ জুন রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলা কমিটির তিন সদস্য সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগ করেন।
১৯ জুন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলা কমিটি থেকে হাফিজুর রহমানসহ চার নেতা পদত্যাগ করেন। তাদের অভিযোগ, পূর্ব অবহিত না করেই কমিটিতে নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল; কেউ কেউ বিএনপি পরিবারের সদস্য হওয়ায় এনসিপির পদে থাকতে চাননি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এনসিপি গঠনের পর দ্রুত সম্প্রসারণের চাপে সঠিক যাচাই-বাছাই ছাড়া পদায়ন হয়েছে, যার ফলে দলীয় অভ্যন্তরে বিভক্তি ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। দলটি নতুন হলেও স্বল্প সময়ে পদত্যাগের হার উচ্চমাত্রায় পৌঁছানো সংগঠনের স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।




















