প্রতিনিধি ১৯ অক্টোবর ২০২৫ , ১০:২৮:৫৮ প্রিন্ট সংস্করণ
দেশে শুধু দাঁতের জন্য নয়, এখন হাতিকে মাংসের জন্যও শিকার করা হচ্ছে—এমন প্রমাণ মিলেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণায়। বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলে এ ধরনের শিকার দীর্ঘদিন ধরে চলছে বলে শোনা গেলেও এবারই প্রথম এর সরেজমিন প্রমাণ পাওয়া গেছে।
চার সদস্যের এক গবেষক দল চলতি বছরের এপ্রিলে মিয়ানমার সীমান্তসংলগ্ন বান্দরবানের সাঙ্গু-মাতামুহুরী সংরক্ষিত বনে গবেষণা চালান। তাদের গবেষণা প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক স্বনামধন্য প্রকাশনা সংস্থা কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে গত ১৬ অক্টোবর প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৫ এপ্রিল গবেষণা দলটি সংরক্ষিত বনের গভীরে একটি মাচায় হাতির মাংস শুকানোর প্রমাণ পায়। প্রায় ৩৬ ফুট লম্বা ও তিন ফুট উঁচু ওই কাঠের মাচার ওপর হাতির শুকনো মাংসের টুকরা পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, একটি পূর্ণবয়স্ক হাতি শিকার করে এর মাংস সেখানে প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছিল। শুধু মাংস নয়, হাতির হাড় ও চামড়াও আগুনের তাপে শুকাতে দেখা গেছে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার উভয় দেশের শিকারিরা এসব শিকারের সঙ্গে জড়িত। সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় ক্রস-বর্ডার শিকার সহজেই চলছে বলে জানান স্থানীয়রা। তবে কারা এই শিকারের সঙ্গে জড়িত—তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে গবেষণা দল উল্লেখ করেছে।
গবেষণা চলাকালে পুরো পথে হাতির পায়ের ছাপ ও মল পাওয়া গেছে, যা প্রমাণ করে এ এলাকা হাতির নিয়মিত বিচরণক্ষেত্র। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, প্রতি বছর নভেম্বর থেকে মার্চ—এই সময়টাতে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে হাতির যাতায়াত বৃদ্ধি পায়।
গবেষকরা সতর্ক করেছেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এ অঞ্চলে বন্য হাতির অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দাঁত পাচারের পাশাপাশি এখন হাতির মাংস ও অন্যান্য অঙ্গের বাণিজ্য নতুনভাবে শিকার বাড়িয়ে তুলছে।




















