প্রতিনিধি ৩ আগস্ট ২০২৫ , ১:১৫:৪১ প্রিন্ট সংস্করণ
নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে এক শিক্ষক দম্পতির ওপর শারীরিক লাঞ্ছনার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে কর্তব্যরত চিকিৎসক, ওয়ার্ডবয় ও অ্যাম্বুলেন্স চালকসহ মোট পাঁচজনের বিরুদ্ধে। বুধবার (৩০ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় সর্বমহলে।
ভুক্তভোগী শিক্ষক তাজিবুল হক স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষক এবং তাঁর স্ত্রী নাজনীন একজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁরা তাজিবুল হকের রক্তচাপ পরিমাপ করাতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে গেলে দেখতে পান, কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. রিফাত বিনতে জান্নাত লিয়া একজন ওষুধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভের সঙ্গে চেম্বারে গল্প করছেন।
ভেতরে ঢুকতে চাইলে বাধা দেওয়া হয়। শিক্ষক দম্পতি এই অনিয়মের প্রতিবাদে মোবাইলে একটি ছবি তুললে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন চিকিৎসক ডা. লিয়া। তিনি দ্রুত ওয়ার্ডবয় বাপ্পী, নাজমুল, সোহেল এবং অ্যাম্বুলেন্স চালক ইমনকে ডেকে আনেন। অভিযোগ রয়েছে, তারা সবাই মিলে শিক্ষক দম্পতিকে টেনে-হিঁচড়ে জরুরি বিভাগের ভেতরে নিয়ে গিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।
পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন ডা. লিয়ার স্বামী তামিম এবং মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সাবেক টিএইচএ ডা. বিজয় কুমার রায়। অভিযোগ রয়েছে, তারা ঘটনাস্থলে এসে শিক্ষক দম্পতির অভিযোগ না শুনেই ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন।
এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা দ্রুতই ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওতে দম্পতির চিৎকার, ধাক্কাধাক্কি ও উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের কিছু অংশ দেখা যায়। সাধারণ মানুষ, শিক্ষক সমাজ এবং সচেতন নাগরিকরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. তাসনিম হোসাইন আরিফ বলেন, “ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় শিক্ষক নেতৃবৃন্দ, নাগরিক সমাজ ও বিভিন্ন সমাজসেবী সংগঠন অভিযোগ করেছেন—এমন ঘটনায় দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তি নিশ্চিত না করা হলে তারা বিক্ষোভ কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন।




















