স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা: ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৪:৫৩:৩২ প্রিন্ট সংস্করণ
রাজধানীর তুরাগ থানাধীন রানাভোলা বটতলা মেনরোড এলাকায় একটি চালের আড়ত ও ওয়ারহাউসে অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে আড়তদার মুহাম্মদ নাজমুল হক (৪৫), ম্যানেজার উজ্জল খানসহ একাধিক কর্মচারী মারধরের শিকার হন। হামলাকারীরা চলে যাওয়ার সময় নাজমুল হককে প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, গত ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ সকাল আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আড়তদার মুহাম্মদ নাজমুল হক তুরাগ থানায় করা সাধারণ ডায়েরিতে (জিডি) উল্লেখ করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পিকআপভ্যানের মাধ্যমে চাল এনে তাঁর ওয়ারহাউসে লোড-আনলোড করে আসছেন। এই লোড-আনলোড কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে তাঁর আড়তের বিপরীত পাশে অবস্থানরত কয়েকজন ব্যক্তি সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা চালায়।
জিডিতে অভিযুক্ত হিসেবে আইয়ুব আলী (৫০), আব্দুস সালাম (৩৫), মুহাম্মদ লোকমান (৩২) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
জিডি সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা ওয়ারহাউসে অনধিকার প্রবেশ করে অশ্লীল ভাষায় গালাগালি শুরু করে। একপর্যায়ে তারা আড়তদার নাজমুল হককে মারধর করে। স্টাফরা বাধা দিতে গেলে তাদেরও মারধর করা হয়। ওয়ারহাউস থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় হামলাকারীরা প্রকাশ্যে নাজমুল হককে ‘পরবর্তীতে খুন করা হবে’ বলে হুমকি দেয়।
হামলার শিকার নাজমুল হক জীবনের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে তুরাগ থানায় জিডি করেছেন।
নূর এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার উজ্জল খান অভিযোগ করে বলেন, গত ৫ আগস্টের পর থেকে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁদের কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় বিভিন্নভাবে চাপ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ১৪ ডিসেম্বর মালামাল ডেলিভারির জন্য ওয়ারহাউসের সামনে একটি পিকআপ রাখাকে কেন্দ্র করে আইয়ুব আলী উচ্চস্বরে গালাগালি শুরু করেন। প্রতিবাদ করলে তিনি ও তাঁর সহযোগীরা মারধর করেন। পরে আইয়ুব আলীর ভাতিজা, তুরাগ থানার ৫৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম, তাঁর ভাই লোকমানসহ আরও কয়েকজন এসে পুনরায় হামলা চালান বলে দাবি করেন তিনি।
অভিযুক্ত আব্দুস সালাম বলেন, “ওয়ারহাউসের সামনে একটি গাড়ি রাখা ছিল। আমার চাচা গাড়ি সরাতে বললে তর্ক-বিতর্ক হয়। একপর্যায়ে আমার চাচার গায়ে হাত তোলা হয়, আমিও তাকে দু-চারটি চড় দিই। ঘটনাস্থলে পুলিশ এসেছিল। বিষয়টি বসে সমাধান করা হবে।”
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব হাজী মোস্তফা জামান বলেন, “বিএনপির নামে কেউ যদি সন্ত্রাসী কার্যক্রম বা চাঁদাবাজিতে জড়ায়, তাদের দলে কোনো জায়গা নেই। প্রমাণ পেলে অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তুরাগ থানার এসআই মানিক খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।




















