সারাদেশ

নীলফামারীতে মসজিদের ভেতরে জামায়াত নেতার ওপর সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগ

  জহুরুল ইসলাম , নীলফামারী প্রতিনিধি: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ , ৪:১৮:০৬ প্রিন্ট সংস্করণ

নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় একটি মসজিদের ভেতরে জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার ওপর সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগ উঠেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) জুম্মার নামাজ শেষে ডোমার উপজেলার পাঙ্গা মটকুপুর ইউনিয়নের পাঙ্গা চৌপতি জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় আহত হন হাসান আলী (২৭)। তিনি মেলাপাঙ্গা গ্রামের মো. আলম হোসেনের ছেলে।

আহত হাসান আলী জুলাই আন্দোলনের একজন আহত যোদ্ধা। তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্র নিয়ন্ত্রিত নীলফামারী শহর শাখার সাবেক স্কুল সম্পাদক এবং বর্তমানে জামায়াতে ইসলামীর পাঙ্গা মটকুপুর ইউনিয়ন শাখার বায়তুলমাল সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি আসাদুজ্জামান অভিযোগ করে বলেন, “প্রায় এক মাস আগে স্থানীয় মুসল্লিদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মীকে নিয়ে গোপনে পাঙ্গা চৌপতি জামে মসজিদের সভাপতি নির্বাচন করা হয়। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে সমালোচনা শুরু হলে তারা হুমকি দেয়। সর্বশেষ শুক্রবার জুমার নামাজের পর এ বিষয়ে কথা বলায় হাসান আলীর ওপর সংঘবদ্ধ হামলা চালানো হয়।”

হাসান আলীর বন্ধু রেজোয়ান কবীর সবুজ বলেন, “জুলাই আন্দোলনে নীলফামারীতে আহত একজন জুলাই যোদ্ধার ওপর হামলা আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট একটি মিছিলে সামনের সারিতে থাকার সময় হাসানের শরীরে ১৩০টির বেশি রাবার বুলেট লাগে। এখনো তার শরীরে ৩০টির বেশি রাবার বুলেট এবং মাথায় ১০টির বেশি বুলেট রয়েছে। এমন অসুস্থ অবস্থার কথা জেনেও মসজিদের ভেতরে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা তার ওপর হামলা করেছে। আমরা দ্রুত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

হাসান আলী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে হামলাকারীদের নাম প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, অভিযুক্তরা সবাই পাঙ্গা মটকুপুর ইউনিয়নের নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী।

হাসান আলী বলেন, “পাঙ্গা চৌপতি জামে মসজিদের কমিটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সমস্যা চলছে। দিন দিন মসজিদের আয়ও কমে যাচ্ছে। শুক্রবার জুমার নামাজের পর মসজিদের ভেতরে এসব বিষয় নিয়ে কথা বলার সময় মুসল্লিদের সামনেই আমাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। দলবদ্ধভাবে আমার গলা চেপে ধরা হয় এবং পা ও মাথায় আঘাত করা হয়।” বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানান তিনি। সুস্থ হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় ব্যক্তি দাবি করেন, “এ ঘটনায় রাজনৈতিক কোনো বিষয় নেই। মসজিদ পরিচালনা কমিটিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতের মানুষ রয়েছেন। হাসানের কিছু বক্তব্য একটি পক্ষের অপছন্দ হওয়ায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়ে এ ঘটনা ঘটেছে।”

ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুল্লাহ জানান, “ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। আহত ব্যক্তি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত তার পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়নি।”

আরও খবর

Sponsered content