প্রতিনিধি ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৯:০২:৫৩ প্রিন্ট সংস্করণ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে চট্টগ্রামে বিএনপির মনোনয়ন ঘিরে কোন্দল বেড়ে চলছে। এরই মধ্যে ঘোষিত ১৪টি আসনের মধ্যে সাতটিতেই মনোনয়ন নিয়ে তীব্র বিরোধ, বিক্ষোভ ও লিখিত অভিযোগ দলের সাংগঠনিক অবস্থাকে চাপের মুখে ফেলেছে।
দলীয় সূত্র ও তৃণমূল নেতাদের অভিযোগ, এসব আসনে দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ত্যাগী নেতাদের উপেক্ষা করা হয়েছে। পরিবর্তে বিতর্কিত ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেওয়ায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় গ্রহণযোগ্য প্রার্থী দেওয়ার দাবিতে সংগঠিত হয়েছেন অসন্তুষ্টরা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব আসনে বিএনপির বিভক্তির সুযোগ নিতে পারে জামায়াত। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ না থাকায় যাদের শক্ত ভোটব্যাংক রয়েছে এলাকায়।
এর মধ্যে চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে সাবেক মন্ত্রী জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর ছেলে মেশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পাকে মনোনয়ন দেওয়ায় আপত্তি তুলেছেন স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান লেয়াকত আলী। তিনি নিজেকে প্রার্থী ঘোষণা করে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। ফেসবুক লাইভে ঘোষণা দিয়েছেন নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার।
লেয়াকত আলী বলেন, স্বতন্ত্র বা দলীয় বুঝি না। আমি নির্বাচন করব, এটাই সত্য। আসনটি যে দলের দরকার হবে, সে দল আমাকে প্রতীক দেবে।
চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকেই সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা নিয়মিত বিক্ষোভ করছেন। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধসহ ৪০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, দীর্ঘ ১১ বছর কারাভোগ করা আসলাম চৌধুরীই এ আসনের প্রকৃত ধানের শীর্ষের প্রার্থী। বিএনপির মনোনয়ন না পেলেও আসলাম চৌধুরী নির্বাচন অংশ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে মনোনীত প্রার্থী কাজী সালাহউদ্দিন দাবি করেছেন, তৃণমূল তাঁর পক্ষেই রয়েছে।
আনোয়ারা-কর্ণফুলী আসনে মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবিতে দক্ষিণ জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে চিঠি দিয়েছেন। বিক্ষোভকারীরা কাফনের কাপড় পরে কর্মসূচি পালন ও মনোনীত প্রার্থীর কুশপুত্তলিকা দাহ করেছেন। পটিয়া আসনের মনোনয়ন পাওয়া এনামুল হক এমনামের মনোনয়ন বাতিল চেয়ে একাধিক নেতা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন, যা দলীয় নেতৃত্বের মধ্যে বিভক্তি আরও স্পষ্ট করেছে।
মিরসরাই ও ফটিকছড়ি আসনেও মনোনয়ন নিয়ে বিরোধ অব্যাহত রয়েছে। কোথাও বহিষ্কৃত নেতাকে পুনর্বহাল করে মনোনয়ন দেওয়ার অভিযোগ, কোথাও আবার সড়ক অবরোধ ও টানা বিক্ষোভ চলছে। মনোনয়নবঞ্চিতদের কেউ কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে দাঁড়ানোরও ইঙ্গিত দিয়েছেন।
মনোনয়ন বঞ্চিত ফটিকছড়ি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কর্নেল আজিম উল্লাহ বাহার বলেন, আমাদের প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছি। তবে যাকে শেষ পর্যন্ত দল মনোনয়ন দেবে, একজন কর্মী হিসেবে আমি অবশ্যই তাঁর পক্ষে কাজ করব।
দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এই সংকট নিরসনে কয়েকটি আসনে মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার চিন্তা-ভাবনা করছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। তবে দ্রুত সমাধান না হলে এই কোন্দল নির্বাচনী মাঠে বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম-৮ আসনের প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ বলেন, কেন্দ্র থেকে স্পষ্ট নির্দেশনা দল যাকে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করবে, তাঁর পক্ষে সবাইকে কাজ করতে হবে। প্রত্যেক আসনে বিএনপির ১০ থেকে ১২ জন ত্যাগী নেতা আছেন, যারা ফ্যাসিস্ট হাসিনার শাসনামলে সংগ্রাম করেছেন। আশা করছি পর্যায়ক্রমে সবাইকে মূল্যায়ন করবে দল। নির্বাচনের আগে সব আসনে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে বলে জানান এরশাদ উল্লাহ।














