সারাদেশ

সীমান্তের ওপারে গোলাগুলি-বিস্ফোরণ, এপারে আতঙ্ক

  প্রতিনিধি ১০ জানুয়ারি ২০২৬ , ৩:৪৮:২৮ প্রিন্ট সংস্করণ

‎নাফ নদ সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইনে রাতভর থেমে থেমে গোলাগুলি ও শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এতে সীমান্ত এলাকার বসতবাড়ি কেঁপে ওঠে।

‎গত বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত টানা তিন দিন টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং সীমান্তের ওপারে রাখাইনে বোমা বিস্ফোরণ ও গোলাগুলি এখনো থেমে থেমে শুনতে পাচ্ছে স্থানীয়রা।

‎মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা জানান, দেশটির জান্তা সরকারের নিয়ন্ত্রণ থেকে রাখাইন রাজ্যের একাধিক শহর, গ্রাম ও সীমান্ত চৌকি হাতছাড়া হয়ে গেছে। এসব এলাকার বড় একটি অংশ বর্তমানে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে। ফলে ওইসব এলাকায় জান্তা বাহিনীর উপস্থিতি দুর্বল হয়ে পড়েছে।

রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের কয়েকটি সশস্ত্র গ্রুপ সক্রিয় অবস্থানে রয়েছে বলে তারা দাবি করেন। এর জেরে রাখাইন সীমান্তজুড়ে রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র গ্রুপ, আরাকান আর্মি ও মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর মধ্যে ত্রিমুখী সংঘাত চলছে।

‎অপরদিকে এই সংঘাতের প্রভাব নাফ নদ সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতেও পড়ছে। গোলাগুলি ও বোমা বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসায় সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

‎অনেক জেলে পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় নাফ নদ ও চিংড়ি ঘেরে যেতে পারছে না। সীমান্তবর্তী মানুষ ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছে।

‎নাফ নদ ও চিংড়ি ঘেরে মাছ ধরে সংসার চালানো রহিম উদ্দিন বলেন, ‘আমরা এখনো মাছ ধরতে যেতে ভয় পাচ্ছি। রাখাইন সীমান্তে যেকোনো সময় গোলাগুলি হচ্ছে এবং সেখানে থেকে গুলি এসে পড়ছে। টানা গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের কারণে আমাদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়ে গেছে।’

‎স্থানীয় বাসিন্দা মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, বৃহস্পতিবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত থেমে থেমে ভারী কয়েকটি বোমা বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দে হোয়াইক্যং সীমান্তের বাড়ি-ঘর কেঁপে উঠছিল। এখন মাঝে মধ্যে দু-একটি ফায়ারের শব্দ ভেসে আসছে।

‎হোয়াইক্যং ইউপি সদস্য সিরাজুল মোস্তফা লালু বলেন, গত তিন দিন ধরে মিয়ানমারের রাখাইন সীমান্তে ব্যাপক গোলাগুলি ও বোমা বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। বিশেষ করে রাতের বেলা শব্দগুলো আরও তীব্র হওয়ায় সীমান্ত এলাকার মানুষ চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। অনেক পরিবার ভয়ে ঘর ছেড়ে অন্যত্র সরে যাওয়ার কথা ভাবছে। শিশু, নারী ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি আতঙ্কিত।

‎তিনি আরও বলেন, হোয়াইক্যং নাফ নদ সীমান্তের খুব কাছাকাছি এলাকায় এসব সংঘর্ষ চলছে। এর আগে মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলি এপারের বাসিন্দাদের শরীরে লেগেছে। এখনো স্থানীয়দের মধ্যে আশঙ্কা, যেকোনো সময় এপারে গুলি এসে পড়তে পারে। গোলাগুলির শব্দে বাড়িঘর কেঁপে উঠছে, ফলে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপনে ব্যাঘাত ঘটছে।

‎টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইনামুল হাফিজ নাদিম বলেন, সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির ঘটনার বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে সতর্কতার সঙ্গে অবস্থান করতে বলা হয়েছে। এছাড়া বিষয়টি নিয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে উপজেলা প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে।

আরও খবর

Sponsered content