প্রতিনিধি ১৭ এপ্রিল ২০২৬ , ৬:২১:২৭ প্রিন্ট সংস্করণ
গত বছর নিখোঁজ হওয়া এক কিশোরীকে হত্যার অভিযোগে মার্কিন র্যাপার ডি৪ভিডিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
এই তারকার আসল নাম ডেভিড অ্যান্টনি বার্ক। গত বছর ডেভিডের নামে নিবন্ধন করা একটি টেসলা গাড়ির ভেতর সেলেস্তে রিভাস হার্নান্দেজ নামের এক কিশোরীর মরদেহ খুঁজে পাওয়া যায়।
লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) জানিয়েছে, ২১ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে জামিন ছাড়াই আটক রাখা হয়েছে এবং আগামী সোমবার (২০ এপ্রিল) মামলাটি জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয়ে উপস্থাপন করা হবে।
মার্কিন গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বার্কের আইনজীবীরা বলেছেন, ‘আমরা পরিষ্কার করে বলতে চাই-এই মামলার প্রকৃত প্রমাণে দেখা যাবে যে ডেভিড বার্ক সেলেস্তে রিভাস হার্নান্দেজকে হত্যা করেননি এবং তার মৃত্যুর কারণও তিনি ছিলেন না।’
তারা আরও বলেন, ‘এই মামলায় কোনো গ্র্যান্ড জুরি কোনো অভিযোগপত্র দাখিল করেনি এবং কোনো ফৌজদারি অভিযোগও দায়ের করা হয়নি। ডেভিডকে শুধুমাত্র সন্দেহের ভিত্তিতে আটক করা হয়েছে।’
পুলিশ এর আগে জানিয়েছিল, তারা সেলেস্তে রিভাসকে হত্যার অভিযোগে বার্ককে গ্রেপ্তার করেছে।
গত ৮ সেপ্টেম্বর হলিউডের একটি গাড়ি পরিবহন ইয়ার্ড থেকে ১৪ বছর বয়সী কিশোরীর দেহাবশেষ উদ্ধার হওয়ার পর থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল, কারণ কর্তৃপক্ষ গাড়িটি থেকে দুর্গন্ধ আসার খবর পেয়েছিল।
আদালতের নথি অনুযায়ী, তদন্তকারীরা টেক্সাসে ডি৪ভিডি-র ঠিকানায় নিবন্ধিত একটি টেসলা গাড়ির সামনের বুট থেকে একটি ব্যাগে তার পচনশীল মাথা ও ধড় উদ্ধার করে।
কাউন্টির ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক বলেছেন, মরদেহটি ‘মারাত্মকভাবে পচে গিয়েছিল’ এবং মৃত্যু তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি কীভাবে মারা গেছেন সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানাতে রাজি হননি।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মরদেহ খুঁজে পাওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগে নিহত হয়েছেন ওই কিশোরী।
এতদিন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ একে হত্যাকাণ্ড নয়, বরং অস্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবেই বিবেচনা করে এসেছে। অন্তত, আনুষ্ঠানিক বয়ানে এ কথাই বলা হয়েছে।
গত নভেম্বরে একজন বিচারক ওই কিশোরীর মৃত্যুর নথি গোপন রাখার আদেশ দেন, যাতে জনসাধারণের কাছে তথ্য পৌঁছানোর আগেই কর্মকর্তারা ময়নাতদন্তকারীর কাছ থেকে তথ্য পান।
রিভাস হার্নান্দেজের মরদেহ উদ্ধারের জায়গা থেকে প্রায় ৭৫ মাইল (১২০ কিমি) দূরে থাকতেন—তার পরিবার তাকে সর্বশেষ ২০২৪ সালের এপ্রিলে নিখোঁজ বলে জানিয়েছিল। কিন্তু লেক এলসিনোরের বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম ছিল না।
লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসের তথ্যমতে, এল সালভাদর থেকে আসা অভিবাসী বাবা-মায়ের প্রথম প্রজন্মের কন্যা রিভাসকে প্রতিবেশীরা এমন একটি মেয়ে হিসেবে চিনতেন, যে প্রায় প্রতিদিন ক্যান্ডি ও সোডা কেনার জন্য পাড়ার দোকানে যেত।
এই বীভৎস মৃত্যু সম্পর্কে তথ্যের অভাব কৌতূহল বাড়িয়ে দিয়েছে এবং অনলাইনে ব্যাপক আলোচনা শুরু করেছে, যেখানে অনেকেই মেয়েটির সঙ্গে গায়কের যোগসূত্র নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা করছেন।
ডিসেম্বরে একটি গ্র্যান্ড জুরি এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করেছিল, কিন্তু বৃহস্পতিবার বার্কের গ্রেপ্তারের ঘটনাটি কয়েক মাসের মধ্যে এই মামলায় প্রথম উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।
ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আদালত গায়কের পরিবারকে টেক্সাস থেকে গ্র্যান্ড জুরির সামনে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য তলব করার পর আদালতের নথিপত্রে মামলাটি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য সামনে আসে।
যখন দাউদ বার্ক, ডি৪ভিডি-র বাবা, টেক্সাসের একটি আদালতে সমনের বিরুদ্ধে লড়েন, তখন তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার মামলার এমন কিছু তথ্য অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন যা আগে জনসাধারণের কাছে প্রকাশ করা হয়নি।
বিবিসির হাতে আসা নথিগুলো থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে, লস অ্যাঞ্জেলেসে একটি গ্র্যান্ড জুরি তদন্তের ‘লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে ডি৪ভিডি-কে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে একটি খুনের অভিযোগ আনা হতে পারে।
এই মামলাটি নিয়ে গায়ক কার্যত নীরব থাকলেও, তার প্রতিনিধিরা আগে জানিয়েছিলেন যে, তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করছেন। বৃহস্পতিবারের গ্রেপ্তারের বিষয়ে বিবিসি তার প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
এখন পর্যন্ত জনসাধারণের কাছে যে কয়েকটি তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে- রিভাস হার্নান্দেজের মরদেহ যখন পাওয়া যায়, তখন তিনি একটি টিউব টপ, ছোট আকারের কালো লেগিংস এবং গয়না পরেছিলেন, যার মধ্যে একটি হলুদ ধাতুর স্টাড কানের দুল এবং একটি হলুদ ধাতুর চেইন ব্রেসলেট ছিল।
তার তর্জনীতে “Shhh…” লেখা একটি উল্কিও ছিল-যে চিহ্নটি বার্কের নিজের তর্জনীর চিহ্নের প্রায় হুবহু অনুরূপ।




















