আন্তর্জাতিক

হাসপাতাল ঘিরে বিক্ষোভ, আইসোলেশন ওয়ার্ডে আগুন

  প্রতিনিধি ২২ মে ২০২৬ , ১২:০৯:৫৮ প্রিন্ট সংস্করণ

আফ্রিকায় গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের (ডিআর কঙ্গো) পূর্বাঞ্চলে ইবোলা প্রাদুর্ভাবকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। দেশটির ইতুরি প্রদেশের বুনিয়া শহরের কাছে অবস্থিত রওয়ামপারা জেনারেল হাসপাতালে ক্ষুব্ধ জনতা হামলা চালিয়ে হাসপাতালের একটি অংশে আগুন ধরিয়ে দেয়।

আজ শুক্রবার (২২ মে) ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

প্রতিবেদনে স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানান হয়, এক তরুণের মৃত্যুর পর তার পরিবার ও স্বজনরা মরদেহ নিয়ে যেতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তা বাধা দেয়। কারণ ইবোলায় আক্রান্ত ব্যক্তির মরদেহ অত্যন্ত সংক্রামক হওয়ায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিরাপদ দাফন নিশ্চিত করা জরুরি।

স্থানীয় রাজনীতিবিদ লুক মালেম্বে মালেম্বে বিবিসিকে জানান, বিক্ষুব্ধ জনতা হাসপাতালের দিকে পাথর ছুড়তে শুরু করে এবং ইবোলা রোগীদের জন্য ব্যবহৃত আইসোলেশন টেন্টে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সতর্কতামূলক গুলি ছোড়ে।

এদিকে হাসপাতালের এক কর্মী সংবাদ সংস্থা এএফপিকে জানান, পাথর নিক্ষেপে এক স্বাস্থ্যকর্মী আহত হন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহত তরুণ স্থানীয়ভাবে পরিচিত একজন ফুটবলার ছিলেন। তার পরিবার দাবি করেছে, তিনি ইবোলায় নয়, টাইফয়েডে মারা গেছেন। অনেক স্থানীয় বাসিন্দাও ইবোলার অস্তিত্ব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

লুক মালেম্বে বলেন, ‘অনেক মানুষ এখনো বুঝতে পারছে না যে ইবোলা বাস্তব। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের কিছু মানুষ মনে করে এটি বিদেশি সংস্থা ও এনজিওগুলোর তৈরি একটি গল্প, যাতে তারা অর্থ উপার্জন করতে পারে।’

হামলার ঘটনায় রোগীদের জন্য নির্ধারিত দুটি চিকিৎসা টেন্ট পুড়ে যায়। এমনকি একটি মরদেহও আগুনে পুড়ে গেছে বলে জানা গেছে। চিকিৎসা সহায়তা সংস্থা আলিমা জানিয়েছে, টেন্টে চিকিৎসাধীন ছয়জন রোগী বর্তমানে নিরাপদে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ইতোমধ্যে এ পরিস্থিতিকে ‘আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। সংস্থাটির তথ্যমতে, গণতান্ত্রিক কঙ্গোতে এখন পর্যন্ত ৬০০টির বেশি সন্দেহভাজন সংক্রমণের মধ্যে অন্তত ১৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্যামুয়েল রজার কাম্বা জানিয়েছেন, মৃতের সংখ্যা ১৫৯-এ পৌঁছেছে।

এদিকে প্রতিবেশী উগান্ডাতেও ইবোলার দুইটি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। ফলে সীমান্ত এলাকায় বাস, নৌযান ও অন্যান্য গণপরিবহন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এবারের প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ‘বুন্ডিবুগিও’ নামের বিরল প্রজাতির ইবোলা ভাইরাস, যার বিরুদ্ধে এখনো কার্যকর কোনো ভ্যাকসিন নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, এ ধরনের টিকা তৈরি হতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।

এদিকে বিদ্রোহী গোষ্ঠী এম২৩ দাবি করেছে, দক্ষিণ কিভু প্রদেশেও প্রথম ইবোলা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। এতে ভাইরাসটি আরও বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আরও খবর

Sponsered content