সারাদেশ

এক বছর ধরে ঘরের ওপর পড়ে আছে বিশাল শিমুল গাছ, মানবেতর জীবন কাটছে দিনমজুর নিলু দাসের

  সাঈদ ইবনে হানিফ ৬ জুন ২০২৬ , ১০:৪৪:১৮ প্রিন্ট সংস্করণ

যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার জামদিয়া গ্রামের ঋষিপাড়ার বাসিন্দা দিনমজুর নিলু দাস ও তার পরিবার প্রায় এক বছর ধরে ভেঙে পড়া একটি বিশাল শিমুল গাছের নিচে চরম ঝুঁকি, ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে বসবাস করছেন। গাছটি অপসারণ না হওয়ায় নতুন করে ঘর নির্মাণও করতে পারছেন না তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২৫ মে দুপুরে যশোর-নড়াইল মহাসড়কের পাশের একটি বড় শিমুল গাছ হঠাৎ করেই ভেঙে পড়ে। কোনো ঝড়-বৃষ্টি ছাড়াই গাছটি নিলু দাসের বসতঘরের ওপর আছড়ে পড়ে মুহূর্তের মধ্যে তার স্বপ্নের ঠিকানা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।

এ ঘটনায় ঘরের খাট, আলমারি, ড্রেসিং টেবিলসহ প্রায় সব আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সৌভাগ্যক্রমে প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও পরিবারটি আর্থিকভাবে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়ে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দুর্ঘটনার প্রায় এক বছর পার হলেও সড়ক কর্তৃপক্ষ কিংবা সংশ্লিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠান গাছটি অপসারণে কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। ফলে ভাঙা ঘরের ওপর এখনও গাছটি পড়ে রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, জামদিয়া গ্রামের দাসপাড়ার অধিকাংশ পরিবারই নিম্নআয়ের। নিলু দাসও দিনমজুরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। বহু কষ্টে সঞ্চয় করে তিনি ছোট একটি ঘর নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু আকস্মিক এ দুর্ঘটনায় তার একমাত্র আশ্রয়স্থলটিও ধ্বংস হয়ে যায়।

স্থানীয় শিক্ষক তৌহিদুল ইসলাম বলেন, “নিলু দাস অত্যন্ত দরিদ্র মানুষ। তার পক্ষে এত বড় গাছ সরানো কিংবা নতুন ঘর নির্মাণ করা সম্ভব নয়। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সরকারি বা বেসরকারিভাবে তাকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন।”

ক্ষতিগ্রস্ত নিলু দাস বলেন, “অনেক কষ্ট করে, খেয়ে না খেয়ে একটা ঘর বানিয়েছিলাম। হঠাৎ গাছ পড়ে আমার একমাত্র আশ্রয়টুকু নষ্ট হয়ে গেছে। সেই থেকে দুর্ভোগের মধ্যে আছি। গাছ সরানো ও নতুন ঘর তৈরির খরচ বহন করার সামর্থ্য আমার নেই। আমি সরকারের ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চাই।”

এলাকাবাসীর দাবি, মানবিক বিবেচনায় দ্রুত গাছটি অপসারণ করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হোক। অন্যথায় অসহায় নিলু দাস ও তার পরিবারের দুর্ভোগ আরও দীর্ঘায়িত হবে।

আরও খবর

Sponsered content