সারাদেশ

সাতক্ষীরা সদর কৃষি কর্মকর্তাকে ঘিরে অপপ্রচারের অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

  শেখ জোবায়ের আল জামান, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: ৫ জুলাই ২০২৬ , ১২:৩৯:৩০ প্রিন্ট সংস্করণ

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে সদ্য যোগদান করা কৃষিবিদ মো. আবু সাঈদ শুভ্রের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সাবেক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মনির হোসেনের অনুসারীদের বিরুদ্ধে বর্তমান কর্মকর্তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের চেষ্টা করার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট সূত্র।

সূত্র জানায়, প্রায় চার বছর সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে সম্প্রতি বদলি হন কৃষিবিদ মো. মনির হোসেন। অভিযোগ রয়েছে, বদলির পরও তিনি সাতক্ষীরায় নিজের প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা করছেন এবং তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের মাধ্যমে বর্তমান কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে নেতিবাচক তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর দায়িত্ব গ্রহণ করা মনির হোসেন বদলির আদেশ পাওয়ার পরও প্রায় দুই সপ্তাহ দায়িত্ব হস্তান্তর বিলম্বিত করেন। চলতি বছরের ১৬ জুন তিনি নতুন কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আবু সাঈদ শুভ্রের কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন।

বর্তমান কর্মকর্তার সমর্থকদের দাবি, দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ১৫ দিনের মধ্যেই তার বিরুদ্ধে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

এদিকে কৃষি উপকরণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সদর উপজেলার এক হাজার ২০০ কৃষকের মধ্যে পাঁচটি করে নারিকেলের চারা, পাঁচটি খুঁটি এবং জৈব সার বিতরণের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আরএফকিউ (RFQ) পদ্ধতিতে রংপুর বিএডিসি এগ্রো সার্ভিস সেন্টার থেকে ৬ হাজারটি নারিকেলের চারা ও ১২ হাজার ১০০টি খুঁটি সংগ্রহ করা হয়। নির্ধারিত সময়ে গোবর সরবরাহ সম্ভব না হওয়ায় সমমূল্যের এসিআই কোম্পানির ৪০ কেজি প্যাকেটের ট্রাইকো কম্পোস্ট বিতরণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

জানা গেছে, প্রকল্পের ক্রয় ও তদারকির দায়িত্বে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা এবং পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ছিলেন।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আবু সাঈদ শুভ্র বলেন, “আমি মাত্র ১৫ দিন আগে সাতক্ষীরায় যোগদান করেছি। পূর্ববর্তী কর্মকর্তা প্রায় দুই সপ্তাহ পর আমার কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। আমি কৃষকদের সেবা দিতে এসেছি। কৃষি উপকরণ ও চারা বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি। আমি কোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নই। প্রয়োজন হলে বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা যেতে পারে।”

তবে এ প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাবেক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মনির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।

আরও খবর

Sponsered content