মো. সাদমান সাকিব দিশান, জবি প্রতিনিধি ৯ এপ্রিল ২০২৬ , ৮:৫০:৩৩ প্রিন্ট সংস্করণ
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী এক মাসব্যাপী আন্দোলনের মুখে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষকদের মধ্য থেকেই উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। সে সময় একে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনের পথে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হলেও, দেড় বছর পর এসে শিক্ষার্থীদের একাংশের মধ্যে হতাশা স্পষ্ট।
প্রশাসন গুচ্ছ ভর্তি পদ্ধতি থেকে বের হয়ে নিজস্ব ভর্তি ব্যবস্থা চালু এবং ‘জকসু’ বাস্তবায়নের উদ্যোগকে সাফল্য হিসেবে দেখালেও, শিক্ষার্থীদের জীবনমান উন্নয়নের মূল দাবিগুলো এখনও বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, ‘যমুনা আন্দোলন’-এর মাধ্যমে আদায় করা আবাসন বৃত্তি এক বছর আগে সরকার অনুমোদন দিলেও এখনো তা বিতরণ করা হয়নি। বৃত্তির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশে দীর্ঘসূত্রতাকে কোষাধ্যক্ষ দপ্তরের ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন তারা।
এদিকে কেরানীগঞ্জে দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রকল্প নিয়েও অসন্তোষ বাড়ছে। নির্দিষ্ট সময়সূচি বা দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আবাসন সংকট নিরসন না হওয়ায় ঢাকার ব্যয়বহুল জীবনযাত্রায় চাপে পড়ছেন অনেক শিক্ষার্থী।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তৃতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা শিক্ষকদের মধ্য থেকে উপাচার্য চেয়েছিলাম এই আশায় যে তারা আমাদের সমস্যাগুলো বুঝবেন। কিন্তু দেড় বছরেও আবাসন বৃত্তির টাকা না পাওয়া এবং দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের স্থবিরতা আমাদের হতাশ করেছে।”
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রায়হান হাসান রাব্বি বলেন, “কোষাধ্যক্ষ কোনোভাবেই দায় এড়াতে পারেন না। আমি মনে করি বিগত উপাচার্যের মতো তিনিও ব্যর্থ। বিগত প্রশাসন শুধু ফাইল চালাচালির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।”
জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, “বিগত প্রশাসনের কার্যক্রমে তিনি নীরব ছিলেন। ফলে তার ওপরও কিছুটা দায় বর্তায়, যা তিনি এড়িয়ে যেতে পারেন না।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন। তিনি বলেন, “বর্তমান প্রশাসনকে এত অল্প সময়ে ব্যর্থ বলা যাবে না। আবাসন বৃত্তির বিষয়ে ইউজিসির সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা দ্রুত বৃত্তির অর্থ পায়, সে জন্য আমরা কাজ করছি।”
অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি জানান, দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে এবং আরডিপিপি অনুমোদনের প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া নতুন দুটি হল নির্মাণ, ফুডকোর্ট চালু, লাইব্রেরিতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্থাপন, অডিটোরিয়াম আধুনিকায়ন ও থিসিস বৃত্তি চালুসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তবে দ্রুত দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে ক্যাম্পাসে নতুন করে অসন্তোষ সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।




















