আইন-আদালত

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হত্যা মামলায় নতুন মোড়, আদালতে দায় স্বীকার

  প্রতিনিধি ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ , ২:০৩:১১ প্রিন্ট সংস্করণ

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ রাহুল দাউদের স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়াসহ তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অপর দুইজন হলেন দাউদের শ্যালক ও সামিয়ার ভাই ওয়াহিদ আহমেদ এবং তার বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা।

দুই দফায় মোট ৯ দিনের রিমান্ড শেষে বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় আসামিদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। পরে তারা স্বেচ্ছায় ঘটনার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে সম্মত হলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করেন।

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদের আদালতে আসামি সামিয়া ও ওয়াহিদের এবং ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালতে আসামি মারিয়া আক্তার লিমার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। জবানবন্দি শেষে আদালত তিনজনকেই কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) পল্টন থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক রোকনুজ্জামান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, গত ১৫ ডিসেম্বর ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম আসামিদের পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরবর্তীতে ২০ ডিসেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদ দ্বিতীয় দফায় চার দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে পল্টন থানাধীন বক্স কালভার্ট রোডে শরিফ ওসমান হাদির ওপর দুষ্কৃতিকারীরা গুলি করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১২০(বি), ৩২৬, ৩০৭, ১০৯ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

পরবর্তীতে আহত হাদি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলে ২০ ডিসেম্বর মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা (হত্যা) সংযোজনের আদেশ দেন আদালত।

মামলার অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, জুমার নামাজ শেষে প্রচারণা শেষ করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেলে করে অনুসরণ করে আসা আসামিরা পিছন থেকে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি চালিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে তিনি মারা যান।

আরও খবর

Sponsered content