খেলাধুলা

ঝিকরগাছায় প্রবাসীর স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু, পিত্রালয়ের দাবি—‘হত্যা’

  এম. আমিরুল ইসলাম জীবন, স্টাফ রিপোর্টার ৩০ অক্টোবর ২০২৫ , ৩:৪৪:৪৫ প্রিন্ট সংস্করণ

 

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের কায়েমখোলা চাঁদা গ্রামে মালদ্বীপ প্রবাসীর স্ত্রী জেনিয়া খাতুন (২০)–এর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) ভোরে নিজ শ্বশুরবাড়ি থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত জেনিয়ার পিতা ছবুর গাজী (৬৫), পৌরসদরের কৃত্তিপুর মাঠপাড়া গ্রামের বাসিন্দা, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছেন। তবে জেনিয়ার পিত্রালয়ের দাবি, তাকে হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে।

থানা সূত্রে জানা যায়, তিন বছর আগে জেনিয়ার সঙ্গে কায়েমখোলা চাঁদা গ্রামের বিল্লাল হোসেনের বিয়ে হয়। তাদের ঘরে ১৬ মাস বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। বিবাহের পর থেকে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে জেনিয়ার মনোমালিন্য চলছিল।

বুধবার (২৯ অক্টোবর) গভীর রাতে প্রতিবেশী ইব্রাহিমের ফোনে খবর পেয়ে নিহতের পরিবার জানতে পারে, জেনিয়া ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়েছে। তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখে, জেনিয়ার মরদেহ সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। পরে ওড়না কেটে নামানো হয়।

নিহতের পরিবারের দাবি, “জেনিয়ার গায়ের রং একটু চাপা হওয়ায় শ্বশুর-শাশুড়ি প্রায়ই তাকে অমানবিক নির্যাতন করতো।” সম্প্রতি তাকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়ার পর জামাই বিল্লাল হোসেন ক্ষমা চেয়ে আবারও বাড়িতে নিয়ে যায়। কিন্তু কয়েক দিনের মাথায়ই এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

তারা আরও বলেন, “মরদেহের অবস্থান ও পায়ের ভাঁজ দেখে মনে হয়, এটি আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যা।”

অন্যদিকে, পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূর মোহাম্মদ গাজী বলেন,“ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা মনে হলেও, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।”

এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা (ইউডি মামলা) দায়ের করা হয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, পারিবারিক কলহ ও মানসিক অশান্তিই হয়তো এই ঘটনার পেছনে কারণ হতে পারে। তবে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

আরও খবর

Sponsered content