প্রতিনিধি ১৪ জুলাই ২০২৫ , ৭:৫৪:২০ প্রিন্ট সংস্করণ
এম. আমিরুল ইসলাম জীবন, স্টাফ রিপোর্টার
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. শাহাজান আলীর বিরুদ্ধে দলীয় পদবী ব্যবহার করে একাধিক পক্ষের স্বার্থ রক্ষায় ‘বেপরোয়া’ কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি প্রেসক্লাবে দেওয়া একটি ‘নাটকীয়’ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি বিজ্ঞ আদালতের রায় ও উপজেলা প্রশাসনের ভূমিকাকে ঘিরে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, “উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) নির্দেশে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সংশ্লিষ্ট জমির বিষয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।” কিন্তু ইউএনও ভুপালী সরকার জানিয়েছেন, এ বক্তব্য ভিত্তিহীন ও ভুল ব্যাখ্যা। পরবর্তীতে তথ্য অধিকার আইনে চাওয়া আবেদনের জবাবে ইউএনও স্পষ্ট করেন, তার কোনো নির্দেশ ছিল না, বরং আদালতে চলমান মামলার তথ্য জানানো হয়েছিল মাত্র। সংশ্লিষ্ট পক্ষ পরবর্তীতে গোপনে সেই বক্তব্য সংশোধন করে কপি জমা দেয় বলে জানা গেছে। এতে প্রশ্ন উঠেছে—প্রেসক্লাবে দেওয়া প্রথম বক্তব্য মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল কিনা।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার উত্তর রাজাপুর গ্রামের একটি জমিকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে একটি মামলা চলমান। ভুক্তভোগী শহিদুল ইসলাম পল্লব জানান, ২০২১ সালের ১৯ জুলাই জেলা প্রশাসকের পক্ষে মামলার আবেদন করা হলেও ২০২৩ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি বিজ্ঞ আদালত মামলাটি খারিজ করে দেয় এবং সোহরাব গংয়ের পক্ষে রায় ও চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখে।
তার ভাষ্যমতে, এই রায় বহাল থাকা সত্ত্বেও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহাজান আলী “তৃতীয় পক্ষ হয়ে” ওই জমিতে নিজের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছেন এবং প্রশাসনের নাম ব্যবহার করে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আদালতের কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন।
শাহাজান আলী নিজে দাবি করেছেন, “আমি শুধু সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়েছি। প্রেসক্লাবে বিএনপির ইউনিয়ন ও থানা পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।” তবে সংবাদ সম্মেলনের কপিতে আদালতের নির্দেশ ও ইউএনওর ভূমিকাকে কেন্দ্র করে তথ্যবিভ্রাট দেখা দেয়।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবিরা নাজমুল মুন্নী বলেন, “যেহেতু পক্ষ-বিপক্ষ আছে, তাই আমরা আদালতের রায়ের জন্য অপেক্ষা করবো। কেউ দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে এমন কিছু করলে সংবাদকর্মীরা সঠিক তথ্য তুলে ধরবেন।”
ইউএনও ভুপালী সরকার বলেন, “আমি শুধু বলেছি মামলাটি আদালতে বিচারাধীন। কিন্তু তারা সংবাদ সম্মেলনে ‘নির্দেশে মামলা’ কথাটি লিখেছে। পরে তারা এটিকে ‘টাইপ মিস্টেক’ বলে সংশোধন করে। সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে আমাদের দায়িত্ব রাষ্ট্রীয় স্বার্থ রক্ষা করা এবং আদালতের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করা।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহাজান আলী ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী আনিসুর রহমান মিলন (সাবেক ছাত্রদল নেতা) এলাকার সাধারণ মানুষ ও সাংবাদিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন। সত্য প্রকাশে বাধা ও সংবাদকর্মীদের ভয়ভীতি দেখানোরও অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসন ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সুস্পষ্ট পদক্ষেপ চেয়েছেন এলাকার সচেতন নাগরিকরা। তারা মনে করছেন, “দলীয় পদ-পদবী ব্যবহার করে আদালত অবমাননা, মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রশাসনের নাম ভাঙানো এবং গণমাধ্যমকে বিভ্রান্ত করা রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা ও গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য হুমকি স্বরূপ।”




















