প্রতিনিধি ২১ জুলাই ২০২৫ , ২:২০:২৩ প্রিন্ট সংস্করণ
বিশেষ প্রতিবেদক, কুয়ালালামপুর:
মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রায় ৯৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে মো. মেহেদী হাসান নামের এক প্রতারকের বিরুদ্ধে। একাধিক ভুক্তভোগী সামাজিক মাধ্যমে অভিযোগ করেছেন, সুপরিকল্পিতভাবে শিক্ষার্থীদের টার্গেট করে তিনি অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগে জানা যায়, মেহেদী হাসান সাধারণত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলেন এবং নিজেকে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও অভিজ্ঞ কনসালটেন্ট হিসেবে তুলে ধরেন। প্রথমদিকে আস্থা অর্জনের জন্য খাবার বিল দেওয়া, বিভিন্নভাবে সাহায্য করা, এমনকি বিনামূল্যে সেবা দেওয়ার মতো কাজও করেন। এরপর সুযোগ বুঝে তাদেরকে তার অধীনে এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ দিয়ে টিউশন ফি সংগ্রহের দায়িত্ব দেন।
পরবর্তী ধাপে, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও ইএমজিএস (EMGS) ফি নেওয়ার পর শুরু হয় প্রতারণা। বারবার বিভিন্ন অজুহাতে ফাইল প্রসেসিংয়ে দেরি দেখিয়ে টাকা ফেরত না দিয়ে শেষ পর্যন্ত নিরুদ্দেশ হয়ে যান তিনি।
বিশেষভাবে অভিযোগ উঠেছে, সাইবারজায়া এলাকায় তিনি সর্বশেষ অবস্থান করছিলেন এবং সেখান থেকেই সর্বশেষ ৯৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রতারণার ধরন হিসেবে তিনি প্রায়ই নতুন ফেসবুক পেজ খুলে স্টুডেন্ট কনসালটেন্সি ব্যবসার আড়ালে কাজ করেন, যেখানে নারীকর্মী দিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করান, নিজে সামনে আসেন না।
এছাড়াও তিনি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সরাসরি টাকা না নিয়ে ভুয়া এজেন্টের মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ করে পালিয়ে যান।
একজন ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, “আমার বাবার জমি বিক্রির টাকা দিয়েছিলাম পড়াশোনার জন্য, এখন সব হারিয়েছি।”
আরেকজন জানিয়েছেন, “ছেলের টাকায় প্রতারণার খবর শুনে এক শিক্ষার্থীর বাবা হার্ট অ্যাটাক করে এখন হাসপাতালে।”
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে মালয়েশিয়ায় একটি মামলা রুজু হয়েছে, যদিও তার অবস্থান এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। আশঙ্কা করা হচ্ছে, তিনি নতুন কোনো এলাকায় নতুন পরিচয়ে আবারও প্রতারণা শুরু করতে পারেন।
পুলিশ এবং দূতাবাসের সতর্কবার্তা:
বাংলাদেশ দূতাবাস এবং মালয়েশিয়া পুলিশের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে, যাতে দ্রুত তার অবস্থান শনাক্ত করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

সতর্কতা বার্তা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে:
১. যেকোনো শিক্ষাগত ফি প্রদান বা স্টুডেন্ট কনসালটেন্সি চুক্তির আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল চ্যানেলে তথ্য যাচাই করুন।
২. ‘মো. মেহেদী হাসান’ নাম বা সংশ্লিষ্ট কোনো পেজ, ব্যক্তি বা এজেন্টের সঙ্গে লেনদেন থেকে বিরত থাকুন।
৩. ভুয়া পেজ ও প্রতারকদের বিরুদ্ধে তথ্য থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা দূতাবাসে রিপোর্ট করুন।




















