নিজস্ব প্রতিবেদক: ৮ নভেম্বর ২০২৫ , ১০:৫৮:৩৩ প্রিন্ট সংস্করণ
রাজধানীর মিরপুরে পেশাদার সাংবাদিকতার পরিবর্তে কথিত ‘অপসাংবাদিকদের’ দৌরাত্ম্য বেড়ে চলেছে। স্থানীয়ভাবে গঠিত কয়েকটি সিন্ডিকেট চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রভাব বিস্তার করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে রয়েছেন এস এম জহিরুল ইসলাম, আমির হোসেন ও ওবায়েদুর রহমান ওবায়েদ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এস এম জহিরুল ইসলাম দীর্ঘদিন আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ‘মিরপুর সম্মিলিত সাংবাদিক জোট’-এর ব্যানারে দলীয় নানা কর্মসূচিতে অংশ নিতেন। তবে চলতি বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে তার রাজনৈতিক অবস্থানে নাটকীয় পরিবর্তন আসে। সম্প্রতি তিনি নিজেকে বিএনপির অঙ্গসংগঠন— যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন এবং বিভিন্ন মিছিল-সমাবেশেও অংশ নিচ্ছেন। রাজনৈতিক পরিচয় বদলে সুবিধা নেওয়া ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে চাঁদাবাজির অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চাঁদা আদায়ের সময় এক পর্যায়ে জহির ও তার সহযোগীরা মিরপুর ২ নম্বর লাভ রোড এলাকায় জনতার হাতে গণধোলাইয়ের শিকার হন। তখন তারা নিজেদের ‘নাগরিক টিভির সাংবাদিক’ পরিচয় দিলেও, পরে জানা যায়, তাদের সঙ্গে ওই চ্যানেলের কোনো সম্পর্ক নেই।
গণধোলাইয়ের পরও কার্যক্রম বন্ধ না করে জহির ‘মিরপুর মিডিয়া সেল’ নামে নতুন সংগঠন গঠন করেন এবং স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে সদস্য ফি বা চাঁদা আদায় শুরু করেন। বিএনপি নেতাদের সঙ্গে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালিয়ে নিজেদের প্রভাবশালী হিসেবে উপস্থাপন করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি জহির সিন্ডিকেট আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত মিরপুর প্রেসক্লাবের নাম ব্যবহার করে একটি নতুন সংগঠন গঠন করেছে।
রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলাম কাদের বলেন, “আমি প্রতিবাদ জানালে জহির, আমির ও ওবায়েদ গভীর রাতে বাসায় গিয়ে আমাকে হুমকি দেয়। এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছি।”
সিন্ডিকেটের আরেক সদস্য আমির হোসেন ওরফে মাখন আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লার ঘনিষ্ঠ ছিলেন। জমি দখল ও প্রতারণার অভিযোগে তিনি এর আগেও পল্লবী থানায় গ্রেফতার হয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে যমুনা টিভিতে সংবাদও প্রচারিত হয়েছিল। বর্তমানে নিজেকে ‘খবরের আলো’ নামের একটি পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন।
অন্যদিকে, ওবায়েদুর রহমান ওবায়েদ ছিলেন প্রজন্ম লীগের নেতা। স্থানীয়ভাবে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নানা অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধেও।
বর্তমানে জহির, আমির ও ওবায়েদ মিলে একটি নতুন সিন্ডিকেট গঠন করেছেন বলে জানা গেছে। তারা নতুন ‘মিরপুর প্রেসক্লাব’-এর অনুষ্ঠানে বিএনপির তিনজন সম্ভাব্য এমপি প্রার্থীকে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের প্রশ্ন— দীর্ঘদিন আওয়ামী রাজনীতির সুবিধা নেওয়া এই সিন্ডিকেট এখন বিএনপির ঘনিষ্ঠ হয়ে নতুন আশ্রয় খুঁজছে কি না, তা নিয়ে চলছে জোর আলোচনা।
মিরপুরের পেশাদার সাংবাদিকদের অভিযোগ, কিছু সুবিধাবাদী ব্যক্তি সাংবাদিকতার মহৎ পেশাকে কলুষিত করছেন। প্রশাসনের কাছে তারা দ্রুত তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এক সিনিয়র সাংবাদিক বলেন, “এই অপসাংবাদিকদের কারণে এলাকার সংবাদমাধ্যমের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এখন অত্যন্ত জরুরি।”














