মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ১২:০২:০২ প্রিন্ট সংস্করণ
হবিগঞ্জের মাধবপুরে সীমনা নদী থেকে কোটি টাকার সিলিকা বালু অবৈধভাবে উত্তোলন ও পাচারের অভিযোগে সংবাদ প্রকাশের পর এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়েরের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে উপজেলা জুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৬নং শাহজাহানপুর ইউনিয়নের সীমনা ছড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র গভীর রাতে ট্রাকযোগে সিলিকা বালু উত্তোলন ও পাচার করে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, আলফাজ মিয়া মহালদারের নেতৃত্বে পরিচালিত এ কার্যক্রম রাত ১২টার পর থেকে ভোর পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।
এই অনিয়মের বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেন দৈনিক মতপ্রকাশ এর প্রতিনিধি এবং মাধবপুর উপজেলা প্রেসক্লাব-এর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক নাহিদ মিয়া।
সংবাদ প্রকাশের পর ৬নং শাহজাহানপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলফাজ মিয়া গত ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে মাধবপুর থানায় ১১১৯ নম্বর একটি জিডি দায়ের করেন। জিডিতে তিনি অভিযোগ করেন, ২০ ফেব্রুয়ারি বিকেলে সাংবাদিক নাহিদ মিয়া তাকে প্রাণনাশ ও লাশ গুমের হুমকি দিয়েছেন।
তবে অভিযোগটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন সাংবাদিক নাহিদ মিয়া। তিনি জানান, জিডিতে উল্লেখিত সময় ও স্থানে তিনি উপস্থিত ছিলেন না। বরং ওই সময় তিনি ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে মাধবপুর পৌরসভা এলাকায় অবস্থান করছিলেন। তিনি বলেন,
“আমি কেবল পেশাগত দায়িত্ব পালন করেছি। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে মিথ্যা অভিযোগে হয়রানি করা হচ্ছে। প্রয়োজনে মোবাইল লোকেশন ও প্রযুক্তিগত তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করা হোক।”
এ ঘটনায় সাংবাদিক সমাজে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মাধবপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ বলেন, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে কোনো সাংবাদিককে ভয়ভীতি প্রদর্শন বা মিথ্যা মামলায় হয়রানি করা হলে তা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। তারা প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানান।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের অভিমত, একটি স্বার্থান্বেষী মহল অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ক্ষুব্ধ হয়ে পরিকল্পিতভাবে এ জিডি দায়ের করেছে। দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।




















