সারাদেশ

দৌলতদিয়ায় বাস দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল রানা প্লাজার ‘বিদ্রোহী’ নাসিমার

  রুকুনুজ্জামান, পার্বতীপুর প্রতিনিধি: ২৭ মার্চ ২০২৬ , ১১:৩৪:৪৫ প্রিন্ট সংস্করণ

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পদ্মা নদীতে বাস দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন রানা প্লাজা ধস থেকে জীবিত উদ্ধার হওয়া ‘বিদ্রোহী’ নাসিমা বেগম (৪০)। তার মৃত্যুতে দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মধ্য আটরাই গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। শুক্রবার বাদ জোহর পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।

নিহত নাসিমা বেগম পার্বতীপুর উপজেলার ৪ নম্বর পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মধ্য আটরাই গ্রামের মৃত নুর ইসলামের স্ত্রী। স্বামীর মৃত্যুর পর জীবিকার তাগিদে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি কাজের সন্ধানে সাভারে যান এবং ভাগ্নি আজমিরা খাতুনের বাসায় অবস্থান করছিলেন।

এক মাস চেষ্টা করেও কাজ না পেয়ে ঈদ উপলক্ষে তিনি ভাগ্নির শ্বশুরবাড়ি ফরিদপুরে অবস্থান নেন। গত ২৫ মার্চ বিকেল ৫টার দিকে তিনি ভাগ্নি অন্তঃসত্ত্বা আজমিরা খাতুন, চার বছরের শিশু আব্দুর রহমান এবং আজমিরার স্বামী আব্দুল আজিজ আজাদকে সঙ্গে নিয়ে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাট হয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে বাসে রওনা দেন।

পথে পদ্মা নদীতে বাস দুর্ঘটনার সময় তারা সবাই নিখোঁজ হন। পরে ভাগ্যক্রমে আব্দুল আজিজ আজাদ জীবিত উদ্ধার হলেও প্রায় ছয় ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে নাসিমা, তার ভাগ্নি ও শিশুসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

আইনি প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মরদেহ নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে করে পার্বতীপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হন স্বজনরা। পথে কুষ্টিয়া এলাকায় লাশবাহী গাড়ির চাকা বিস্ফোরিত হয়ে সাময়িক দুর্ঘটনারও শিকার হন তারা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিহতের চাচাতো ভাই জুলফিকার আলী ভুট্টু।

তিনি জানান, রানা প্লাজা ধসের সময় নাসিমা সেখানে কর্মরত ছিলেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে তিন দিন আটকে থাকার পর অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার হন তিনি। স্বামীর মৃত্যুর পর জীবিকার প্রয়োজনে আবার ঢাকায় কাজের সন্ধানে যাওয়াই শেষ পর্যন্ত তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়।

পার্বতীপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আ. ওয়াদুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহতের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদ্দাম হোসেন জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা ধসে নাসিমা বেগম ছিলেন জীবিত উদ্ধার হওয়া শ্রমিকদের একজন। তিন দিন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকার পর তাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। সেই সংগ্রামী জীবনের গল্পই তাকে ‘বিদ্রোহী’ হিসেবে পরিচিত করে তোলে।

আরও খবর

Sponsered content