স্টাফ রিপোর্টার: ১৮ মে ২০২৬ , ৭:৫৯:৫৪ প্রিন্ট সংস্করণ
বাংলাদেশের বস্ত্র ও তৈরি পোশাক খাতের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের শীর্ষ কর্তাদের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিন বেতন না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের দাবি, একদিকে তারা ৯ থেকে ১২ মাস ধরে বেতন না পেয়ে পরিবার নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে রয়েছেন, অন্যদিকে মালিকপক্ষ বিদেশে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বেতন বকেয়া থাকায় প্রতিষ্ঠানটির ২২ জন এজিএম, সিনিয়র অফিসার এবং মার্কেটিং বিভাগের কর্মকর্তা রাজধানীর গুলশানের নিকেতন কার্যালয়ে টানা ৪৮ ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। নির্ধারিত সময়েও বেতন না পেয়ে কর্মীরা অফিসে অবস্থান করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ডাকা হয়। পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষ বকেয়া পরিশোধের জন্য আরও সময় নেয় বলে অভিযোগ করেন কর্মীরা।
প্রতিষ্ঠানটির সাবেক সিনিয়র ম্যানেজার মোহাম্মদ মেহেদী হাসান বলেন, শুরুতে কর্মীদের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে বেতন পরিশোধ করা হয়নি। বেতন না পাওয়ায় অনেকেই চাকরি ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, আন্দোলন দমাতে স্থানীয় প্রভাবশালী ও বহিরাগতদেরও ব্যবহার করা হয়েছে।
বেতন বকেয়ার চাপের কারণে প্রতিষ্ঠানের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমার্শিয়াল ম্যানেজার আবুল হাসনাত অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে। কর্মীদের অভিযোগ, পরিবার পরিচালনা, বাড়িভাড়া এবং সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালানো তাদের জন্য এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে, প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের একাংশ দাবি করেছেন, কোম্পানির পুঁজিবাজার কার্যক্রম থেকে বিপুল অর্থ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং পরিকল্পিতভাবে প্রতিষ্ঠানকে দেউলিয়া করার চেষ্টা চলছে। এছাড়া আমদানির আড়ালে অর্থ পাচারের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) মামলা দায়ের করেছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তুহিন রেজা বলেন, প্রতিষ্ঠানটি কাঙ্ক্ষিত আয় করতে না পারায় বেতন পরিশোধে সংকট তৈরি হয়েছে। তিনি দাবি করেন, কিছু কর্মকর্তা দায়িত্বে অবহেলা ও সম্পদ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে অভ্যন্তরীণ অডিট চলছে এবং অডিট শেষে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।




















