প্রতিনিধি ২২ মে ২০২৬ , ৩:২৯:৫৫ প্রিন্ট সংস্করণ
তাইওয়ানের কাছে প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির পরিকল্পনা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরান যুদ্ধের জন্য পর্যাপ্ত অস্ত্রভাণ্ডার নিশ্চিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানায় মার্কিন নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সচিব হাং কাও। সিনেটের এক শুনানিতে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
আজ শুক্রবার ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
হাং কাও শুনানিতে বলেন, ‘বর্তমানে আমরা কিছুটা বিরতি দিচ্ছি যাতে আমাদের প্রয়োজনীয় গোলাবারুদ পর্যাপ্ত থাকে। আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে সব প্রস্তুতি ঠিক আছে, এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী বৈদেশিক সামরিক বিক্রয় আবার চালু হবে।’
তিনি আরও জানান, তাইওয়ানের সাথে এই বিরতি সম্পর্কে এখনও কোনো আলোচনা করেননি।
এদিকে শুক্রবার তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট দপ্তরের এক মুখপাত্র সাংবাদিকদের জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অস্ত্র বিক্রির পরিকল্পনায় কোনো পরিবর্তনের তথ্য তারা এখনো পায়নি।
এর কয়েকদিন আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে স্পষ্ট কোনো অবস্থান জানাননি।
ট্রাম্প আগেই ফক্স নিউজকে বলেছেন, ‘এটি চীনের সঙ্গে আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত হাতিয়ার হতে পারে। তিনি আরও জানান, খুব শিগগিরই তিনি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।’
ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দেন যে তিনি তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের সঙ্গেও সরাসরি কথা বলতে পারেন, যা কূটনৈতিক রীতিনীতির বড় ধরনের পরিবর্তন হবে এবং বেইজিংয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।
প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের এই প্যাকেজটি কয়েক মাস ধরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এতে আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রসহ উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে বারবার বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র সরবরাহ আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।’
এর আগে গত বছর যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের জন্য ১১ বিলিয়ন ডলারের একটি বড় অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেয়, যার বিরুদ্ধে চীন কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছিল। বেইজিং তখন সতর্ক করে বলেছিল, এতে তাইওয়ান প্রণালির পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ ও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।




















