মো. সাকিব চৌধুরী, স্টাফ রিপোর্টার ৪ জুন ২০২৬ , ১১:৫৯:০২ প্রিন্ট সংস্করণ
রংপুর মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে মারধরের অভিযোগে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাদ রহমানসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে রংপুর মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ওসি আজাদ রহমান ও কনস্টেবল বাসুদেবসহ পাঁচজনকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে বুধবার দিবাগত রাতে ডিউটিতে থাকা নারী কনস্টেবল লিমা সরেন, ডিউটি অফিসার মেহেরুন্নেসা এবং উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাসুদ রানাকে প্রত্যাহার করা হয়।
মারধরের শিকার রাকিবুল ইসলাম রাকিব জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের রংপুর সদর উপজেলা শাখার সদস্যসচিব।
ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, নগরীর সিও বাজার এলাকার এক প্রেমিক যুগল নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল। পরে ওই যুগলকে উদ্ধার করে বুধবার সন্ধ্যায় থানায় আনা হয়। পরিবারের অনুরোধে বিষয়টি মীমাংসার জন্য স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতা থানায় যান। তাদের মধ্যে ছিলেন রাকিবুল ইসলাম রাকিব।
অভিযোগ রয়েছে, থানার ভেতরে এক পুলিশ সদস্য ওই যুগলকে মারধর করছিলেন। বিষয়টির প্রতিবাদ করলে ওসি ও কয়েকজন পুলিশ সদস্য রাকিবুল ইসলাম রাকিবের ওপর চড়াও হন এবং তাকে মারধর করেন।
রাকিবুল ইসলাম রাকিব অভিযোগ করেন, উদ্ধার হওয়া প্রেমিক যুগলকে মারধরের বিষয়টি দলের এক নেতাকে জানাতে মোবাইল ফোন বের করতেই ওসি, এসআই ও কয়েকজন পুলিশ সদস্য তার ওপর হামলা চালান। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মারধরের পর পুলিশ সদস্যরা তাকে জোরপূর্বক নিয়ে গিয়ে শরীরে লেগে থাকা রক্ত ধুয়ে দেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের সামনে রক্তমাখা তুলা এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানের আঘাতের চিহ্ন প্রদর্শন করেন।
এ সময় ওই প্রেমিক যুগলকেও চিৎকার করে বলতে শোনা যায় যে, তাদেরও মারধর করা হয়েছে।
খবর পেয়ে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামু থানায় যান। পরে আহত রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। রাত ১১টার দিকে থানা থেকে ওই প্রেমিক যুগলকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সদর উপজেলার হরিদেবপুর ইউনিয়ন বিএনপির নেতা জাহাঙ্গীর আলম সাংবাদিকদের বলেন, “রাকিবকে পুলিশ মারধর করেছে। আমাকেও আঘাত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। ছেলেমেয়েটিকে মারধর করা হচ্ছিল, সেটি দেখে প্রতিবাদ করাই যেন অপরাধ হয়ে গেছে।”
এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে রংপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব জাকারিয়া ইসলাম জিম বলেন, “পোশাক পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু পুলিশের আচরণ পরিবর্তন হয়নি। আমরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।”
এদিকে ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) নরেশ চাকমাকে সভাপতি করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন ডিসি (ক্রাইম) মো. মাহফুজুর রহমান এবং কোতোয়ালি জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) সুকুমার রায়।
রংপুর মহানগর পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত কমিটি নিরপেক্ষভাবে বিষয়টি তদন্ত করবে এবং প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




















