সোহেল খান দূর্জয়, নেত্রকোনা: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ১১:৪৯:৩৮ প্রিন্ট সংস্করণ
নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলা-তে ১৪ বছর বয়সী এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরীর ধর্ষণ ও সন্তান প্রসবের ঘটনায় অভিযুক্ত কিবরিয়াকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। একইসঙ্গে ভুক্তভোগী কিশোরী ও তার নবজাতক সন্তানের যাবতীয় দায়িত্ব রাষ্ট্রকে গ্রহণ করার জোর দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় বারহাট্টা উপজেলা প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ, বারহাট্টা, নেত্রকোনা’-এর উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে শত শত নারী-পুরুষ, ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধনের সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংস্থা (বিএনপিএস) বারহাট্টা কেন্দ্রের উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মাজহারুল ইসলাম।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বিএনপিএস কেন্দ্র ব্যবস্থাপক সুরজিৎ কুমার ভৌমিক, গোপালপুর বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবু হানিফ, বারহাট্টা ইউনিয়ন ইয়ুথ গ্রুপ সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মঞ্জু, আসমা ইউনিয়ন ইয়ুথ গ্রুপ সাধারণ সম্পাদক ইয়াদ আহমেদ ও ছালিপুরা গন্ধরাজ নারী সমিতির সভাপতি সাবেকুন্নাহার মনি।
ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা-মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে তাদের চরম অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেন। কিশোরীর মা বলেন, দীর্ঘ ছয় মাস ধরে তারা বিচারপ্রার্থনায় থানার ও জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। “মামলার পরও পুলিশ আসামিকে ধরছে না। অভিযুক্ত কিবরিয়ার সঙ্গে তার মেয়ের বিয়ের দাবি করছি,” জানান তিনি। কিশোরীর বাবা আক্ষেপ করে বলেন, “আমি মামলার খরচ জোগাতে আমার উপার্জনের একমাত্র সম্বল দেড় লাখ টাকার গাড়ি বিক্রি করেছি। এখন আমরা পথে বসে গেছি, আমার প্রতিবন্ধী মেয়েটার কোলে একটি শিশু—আমি এখন কী করব?”
স্থানীয় বক্তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সিংধা ইউনিয়নের কিবরিয়া নামের ব্যক্তি এই জঘন্য অপরাধ করেছে। এটি শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং সমাজের বিবেকের ওপর চরম আঘাত।
কমিউনিটি ফোরামের সহ-নেত্রী মিনা রানী বলেন, “রাস্তাঘাটে নারীদের কোনো নিরাপত্তা নেই। আগামী ৭ দিনের মধ্যে আসামিকে গ্রেপ্তার না করলে বারহাট্টার ৭টি ইউনিয়নের নারী-পুরুষ রাস্তাঘাট অবরোধ এবং আসামির বাড়ি ঘেরাও করে আগুন জ্বালিয়ে আন্দোলন চালাবে। আমরা ধর্ষকের ফাঁসি চাই।”
বক্তারা প্রশাসন ও বারহাট্টা থানা পুলিশকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ৮ মার্চ ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’-এর আগে আসামিকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ডা. আনোয়ারুল হক এর দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত বিচার এবং ভুক্তভোগী পরিবারের চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তার দাবি জানান। মানববন্ধনে জানানো হয়, এমপি আনোয়ারুল হক ইতিমধ্যে পরিবারটিকে ব্যক্তিগতভাবে কিছু আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। অন্যথায় বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত তুলে ধরার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।





















