প্রচ্ছদ

নোয়াখালীতে রাজনীতিতে ভাইরাল ছবি: বিএনপি নেতার পাশে বসা দুই আলোচিত আওয়ামী লীগ নেতা

  প্রতিনিধি ২২ জুলাই ২০২৫ , ১:৩০:৪১ প্রিন্ট সংস্করণ

নোয়াখালী প্রতিনিধি

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের দুই বিতর্কিত আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির এক শীর্ষ নেতার একই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ এবং একসারিতে বসে ছবি তোলা ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে ঝড় বইছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিও ও ছবি নিয়ে বিভ্রান্তি, ক্ষোভ ও বিতর্কে মুখর হয়ে উঠেছে জেলা বিএনপির রাজনীতি।

রোববার (২১ জুলাই) বিকেল থেকে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও এবং কয়েকটি স্থিরচিত্রে দেখা যায়, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে একটি অনুষ্ঠানে একই সারিতে বসে রয়েছেন আওয়ামী লীগের দুই আলোচিত নেতা—নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মুছাপুর ইউপি চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী এবং রামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ইকবাল বাহার চৌধুরীর পাশে।

🎯 কোন অনুষ্ঠান?

এই ছবি এবং ভিডিও ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত “রামপুর-মুছাপুর ইয়াং স্টার গেট টুগেদার ২০২৫” নামের একটি আয়োজনে ধারণ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সানকেন মিডোজ স্টেট পার্কে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দুই ইউনিয়নের প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশ নেন।

🔥 সমালোচনার ঝড়

ছবিগুলো ছড়িয়ে পড়ার পর নোয়াখালী জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। ফেসবুকে বিএনপি-সমর্থিত একাধিক ব্যবহারকারী ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন—
“আওয়ামী দোসরদের সঙ্গে বিএনপির একজন কেন্দ্রীয় নেতা কীভাবে একমঞ্চে? নোয়াখালী-৫ আসনের মানুষ এটা মেনে নিচ্ছে না!”
তাফসির হোসেন নামে একজন লিখেছেন, “প্রিয় আবেদ ভাই, হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে আপনাকে ঐ সব অপরাধীদের পাশে দেখে।”
একজন জিয়াউর রহমান মন্তব্য করেছেন, “আবেদ সাহেব কি আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের দায়িত্বে নেমেছেন?”

🕵️ যারা আলোচনায়

ভাইরাল হওয়া দুই আওয়ামী লীগ নেতা সম্পর্কে জানা গেছে—

  • আইয়ুব আলী: মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তার বিরুদ্ধে বালু উত্তোলন ও খাসজমি দখলের অভিযোগ রয়েছে।

  • ইকবাল বাহার চৌধুরী: রামপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান।
    স্থানীয়দের দাবি, এরা দুজনই সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং কাদের মির্জার ঘনিষ্ঠ সহযোগী।

🗣️ অভিযুক্ত নেতার বক্তব্য

বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ গণমাধ্যমকে জানান,

“আমি গত ১২ জুলাই আমেরিকা এসেছি। আয়োজকেরা আমাকে ওই অনুষ্ঠানে শুধু শুভেচ্ছা জানাতে বলেছিল। আমি জানতাম না কারা কারা থাকবে। তারা বলেওনি। ওদের আমি চিনি না। আয়োজকরা আগেভাগে জানালে আমি সাবধান হতাম। ছবি না উঠত।”

তিনি আরও জানান,

“পুরস্কার বিতরণের পর ২ মিনিট কথা বলেছি। এরপর জেনেছি তারা কাদের মির্জার ঘনিষ্ঠ এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত। বিষয়টি দুঃখজনক।”

📵 মন্তব্য নিতে চেষ্টা

ছবিতে থাকা দুই আওয়ামী লীগ নেতা আইয়ুব আলী ও ইকবাল বাহার চৌধুরীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব হারুনুর রশীদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

🧭 দলের ভেতরে চাপ

নোয়াখালী বিএনপির অভ্যন্তরে এই ঘটনার পর নীরব উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনেকেই মনে করছেন, সামনের জাতীয় নির্বাচন ঘিরে এই ধরনের বিতর্কিত অবস্থান দলের ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। দলের কেন্দ্রীয় হাইকম্যান্ড এ বিষয়ে কী অবস্থান নেয় তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।

নির্বাসিত রাজনীতিক, বিতর্কিত অবস্থান আর রাজনৈতিক মঞ্চে প্রতিপক্ষের সঙ্গ অবস্থান—সব মিলিয়ে বজলুল করিম চৌধুরীর আমেরিকার এই একান্ত উপস্থিতি বিএনপির জন্য জটিল বার্তা বয়ে এনেছে। সচেতন মহল বলছে, রাজনৈতিক শুদ্ধতা ও দলে শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হলে এই ঘটনার প্রকৃত তদন্ত ও অবস্থান নেওয়া জরুরি।

আরও খবর

Sponsered content