সারাদেশ

ফুলের সমারোহে মোহনীয় রূপ নিয়েছে কেশবপুর উপজেলা পরিষদ চত্বর

  এনামুল হাসান , যশোর (মনিরামপুর-কেশবপুর) প্রতিনিধি ২২ জানুয়ারি ২০২৬ , ১২:০১:১১ প্রিন্ট সংস্করণ

যশোরের কেশবপুর উপজেলা পরিষদ চত্বর এখন রঙিন ফুলের সমারোহে এক মোহনীয় রূপ ধারণ করেছে। উপজেলা প্রশাসনের সময়োপযোগী ও পরিকল্পিত উদ্যোগে পুরো প্রশাসনিক এলাকাটি এখন নজরকাড়া সৌন্দর্যের আধারে পরিণত হয়েছে। সবুজ চত্বরে ফুটে থাকা হরেক রকমের ফুলের মায়াবী রূপ দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ ও দর্শনার্থীরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলা পরিষদ চত্বরের প্রতিটি কোণ যেন একেকটি নিপুণ শিল্পকর্ম। বিশেষ করে সবুজ ঘাসের বুকে হলুদ ও কমলা গাঁদা ফুল দিয়ে তৈরি করা দৃষ্টিনন্দন নকশা সবার নজর কাড়ছে। শুধু গাঁদা নয়, সুপরিকল্পিতভাবে রোপণ করা হয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির মৌসুমি ফুলের চারা। নিয়মিত পরিচর্যা ও সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের ফলে প্রতিটি ফুল পূর্ণরূপে বিকশিত হয়ে ছড়িয়ে দিচ্ছে স্নিগ্ধ আভা।

উপজেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগ কেবল বাহ্যিক সৌন্দর্যই বাড়ায়নি, বরং তৈরি করেছে একটি পরিবেশবান্ধব ও স্বস্তিদায়ক কর্মপরিবেশ। প্রতিদিন শত শত মানুষ বিভিন্ন প্রয়োজনে এখানে আসেন।

সেবাগ্রহীতাদের মতে, ফুলের এই বাগান কাজের ক্লান্তি দূর করে মনে প্রশান্তি এনে দেয়। পরিষদে আসা কয়েকজন দর্শনার্থী বলেন, আগে প্রশাসনিক এলাকা মানেই ছিল কেবল ইটের দেয়াল আর ফাইলের স্তূপ। কিন্তু কেশবপুর উপজেলা পরিষদের এই ফুলের বাগান পুরো দৃশ্যপট বদলে দিয়েছে। এমন নান্দনিক পরিবেশ সত্যিই প্রশংসনীয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সরকারি দপ্তরে আসা সাধারণ মানুষের মনে ইতিবাচক মানসিকতা তৈরি এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যেই এই বাগান সাজানো হয়েছে। মালিদের নিবিড় তদারকিতে এই সৌন্দর্য ধরে রাখার নিরন্তর চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রেকসোনা খাতুন বলেন, “একটি সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ মানুষের কাজের গতি বাড়ায় এবং মানসিক প্রশান্তি দেয়। আমরা চেয়েছি এই চত্বরকে কেবল একটি প্রশাসনিক কেন্দ্র নয়, বরং একটি পরিবেশবান্ধব ও নান্দনিক স্থান হিসেবে গড়ে তুলতে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “সবুজ ঘাসের বুকে গাঁদা ফুলসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফুলের যে নকশা করা হয়েছে, তা পরিষদের দৃশ্যপট বদলে দিয়েছে। এখানে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ যেন বিষণ্নতা ভুলে এক চিলতে প্রশান্তি পান, সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য। সুন্দর কর্মপরিবেশ সেবা প্রদানকারী ও সেবাগ্রহীতা—উভয় পক্ষকেই ইতিবাচকভাবে অনুপ্রাণিত করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”

বর্তমানে ফুলের এই স্নিগ্ধতা কেশবপুর উপজেলা পরিষদকে যশোরের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন প্রশাসনিক চত্বর হিসেবে অনন্য পরিচিতি এনে দিয়েছে।

আরও খবর

Sponsered content