প্রতিনিধি ২৩ জুলাই ২০২৫ , ৪:১৭:১৯ প্রিন্ট সংস্করণ
মাসুম বিল্লাহ, শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি: উজানের পাহাড়ি ঢল ও পানি বাড়ার জেরে ভয়াবহ নদীভাঙনের কবলে পড়েছে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রাম। বাঙালি নদীর দুকূলে ইতোমধ্যে প্রায় ৩০০ বিঘা ফসলি জমি, ২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১টি মসজিদ, ১টি মাদ্রাসা, একটি কবরস্থান ও মক্তব ভাঙনে নিশ্চিহ্ন বা হুমকির মুখে পড়েছে।
গত ১৫ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই নদীভাঙনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বরিতলী ও বিলনোথার গ্রাম। নদীর ডান তীরবর্তী এই অঞ্চলে ইতোমধ্যে বরিতলীতে প্রায় ৩০০ মিটার এবং বিলনোথারে প্রায় ৪০০ মিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় কৃষক রুহুল আমিন ক্ষোভ ও বেদনার সঙ্গে বলেন, “আমার বাবা সহ আমি নিজে এই নদীর ভাঙনের শিকার হয়েছি সাতবার। বারবার ভিটেমাটি সরিয়ে কোথায় যাব? এবার দেখছি, মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকুও চলে যাবে।”
একইরকম দুর্ভোগের বর্ণনা দেন বিলনোথার গ্রামের হোসেন আলী, “বাপ-দাদার জমিজমা কিছুই আর অবশিষ্ট নেই। ভাই ঢাকায় গার্মেন্টসে কাজ করছে। ভিটে হারানোর দুঃখে আর গ্রামেও আসে না।”
শইলমারির ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ আবুল ফজল স্মৃতিচারণ করে বলেন, “১৯৮৮ সাল থেকে নদীর ভয়াবহতা দেখছি। আমার নানা বাড়ি ১২ বার ভেঙেছে। আমিও সাতবার ভিটে সরিয়েছি। এখনো আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি।”
গত বছর বরিতলী পয়েন্টে নদীভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড অস্থায়ীভাবে ১৫ হাজার জিও ব্যাগ ব্যবহার করে ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁধ নির্মাণ করেছিল। তবে স্থানীয়রা বলছেন, সেটা ছিল “আনুষ্ঠানিকতা মাত্র”। বর্ষা এলেই নদী তার স্বরূপ ফিরে পায়।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হক জানান, “বরিতলীতে বাঙালি নদীর ভাঙনস্থল পরিদর্শন করে আমরা প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছি। প্রাথমিকভাবে দেড়শ মিটার এলাকায় ভাঙন প্রতিরোধে প্রায় ৫০ লাখ টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই দ্রুত কাজ শুরু করব।”
গ্রামবাসীর দাবি, “প্রতিবার বর্ষায় নদীভাঙনের কথা বলা হয়, বরাদ্দের আশ্বাসও আসে, কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয় না। এবার চাই স্থায়ী ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।”
নদীর ভয়াবহ থাবা থেকে প্রাণ-সম্পদ রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বাঙালি নদী গিলে খাবে আরো শত শত পরিবার ও তাদের শেষ আশ্রয়টুকু।














