খেলাধুলা

বিশ্বকাপ ইস্যুতে শাস্তি হচ্ছে না বাংলাদেশের, পাচ্ছে পুরস্কার

  প্রতিনিধি ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ১২:৩২:৫৯ প্রিন্ট সংস্করণ

২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে খেলতে অস্বীকৃতি জানানোয় বাংলাদেশকে কোনো ধরনের শাস্তি দেওয়া হবে না, এমনটিই জানিয়েছে আইসিসি। ইএসপিএনক্রিকইনফোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ কারণে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়লেও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আর্থিক, ক্রীড়াগত কিংবা প্রশাসনিক কোনো জরিমানার মুখে পড়বে না। উল্টো, ২০৩১ সালের পুরুষদের ওয়ানডে বিশ্বকাপের (যার সহ-আয়োজক ভারত ও বাংলাদেশ) আগেই বাংলাদেশ একটি আইসিসি ইভেন্ট আয়োজনের সুযোগ পাবে।

আইসিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই বিষয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের বিরুদ্ধে কোনো আর্থিক, ক্রীড়াগত বা প্রশাসনিক শাস্তি আরোপ করা হবে না। পাশাপাশি বিসিবি চাইলে আইসিসির বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী ডিসপিউট রেজোলিউশন কমিটিতে (ডিআরসি) যাওয়ার অধিকারও অক্ষুণ্ণ থাকবে।’

আইসিসি আরও জানায়, তাদের এই সিদ্ধান্ত নিরপেক্ষতা ও ন্যায়বিচারের নীতির ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়েছে। শাস্তির বদলে সহযোগিতামূলক সমাধানই তাদের লক্ষ্য।

এই সমঝোতার অংশ হিসেবে সিদ্ধান্ত হয়েছে, ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগেই বাংলাদেশ একটি আইসিসি ইভেন্ট আয়োজন করবে-যা আইসিসির স্বাভাবিক আয়োজন প্রক্রিয়া, সময়সূচি ও পরিচালনাগত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে হবে। এতে বাংলাদেশের আয়োজক হিসেবে সক্ষমতার প্রতি আইসিসির আস্থা প্রতিফলিত হয়েছে এবং দেশটিতে ক্রিকেটের উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতিও জোরালো হয়েছে।

চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, কারণ বাংলাদেশ সরকার দলকে ভারতে সফর ও খেলতে অনুমতি দেয়নি। বিসিবি ম্যাচগুলো শ্রীলংকায় সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দিলেও আইসিসি বোর্ড তাতে সম্মতি দেয়নি। এর পেছনে ভারত-বাংলাদেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের অবনতি এবং আইপিএল থেকে বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে অনির্দিষ্ট কারণে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও প্রেক্ষাপট হিসেবে উঠে এসেছে।

বাংলাদেশের বাদ পড়া আরও আলোচনায় আসে, যখন পাকিস্তান সরকার জানায়-তারা বিশ্বকাপে খেলবে, তবে ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ ম্যাচ বয়কট করবে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে বাংলাদেশের বাদ পড়ার বিষয়টি যুক্ত করে আইসিসির সঙ্গে আলোচনা শুরু করে। বিসিবির জন্য কোনো ধরনের প্রতিকার নিশ্চিত করাই ছিল সেই আলোচনার কেন্দ্রে।

রোববার লাহোরে আইসিসির ডেপুটি চেয়ার ইমরান খাজা, পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি এবং বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলামের মধ্যে বৈঠক হয়। পিসিবির মতে, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের বিষয়ে সিদ্ধান্ত শিগগিরই আসতে পারে, তবে বাংলাদেশের বিষয়টি ইতোমধ্যেই সমাধান হয়েছে।

আইসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জোগ গুপ্তা বলেন, ‘বাংলাদেশের অনুপস্থিতি নিঃসন্দেহে দুঃখজনক। তবে এটি বাংলাদেশের প্রতি আইসিসির দীর্ঘস্থায়ী অঙ্গীকারকে বদলায় না। বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেট দেশ, যেখানে ক্রিকেটের টেকসই উন্নয়ন, প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা এবং বৈশ্বিক সংযুক্তি নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।’

তিনি আরও যোগ করেন, স্বল্পমেয়াদি জটিলতায় বাংলাদেশ ক্রিকেটের পরিচয় সীমাবদ্ধ নয় এবং দেশটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ও উন্নয়নের যোগ্য একটি ক্রিকেট ইকোসিস্টেম।

আরও খবর

Sponsered content