সারাদেশ

ভিজিএফ চাল আত্মসাতের অভিযোগে গঙ্গাচড়ায় ইউপি সদস্য ঝর্ণা বেগম সাময়িক বরখাস্ত

  গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি: ২৬ নভেম্বর ২০২৫ , ২:৪৮:৪৮ প্রিন্ট সংস্করণ


রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার গজঘণ্টা ইউনিয়ন পরিষদের ৯নং ওয়ার্ডের সদস্য ঝর্ণা বেগমকে ভিজিএফ চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। উচ্চতর তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯–এর ৩৪(৪)(খ) ও (ঘ) ধারা অনুযায়ী তাকে বরখাস্ত করা হয়। একই সঙ্গে অস্থায়ীভাবে ওই ওয়ার্ডের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সংরক্ষিত ৭, ৮, ৯ নং ওয়ার্ডের মহিলা সদস্য শম্পা বেগমকে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দরিদ্র ও দুস্থদের জন্য ১০ কেজি করে ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। রেশিও অনুযায়ী গজঘণ্টা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডে ৪৮৬টি স্লিপ ইউপি সদস্য ঝর্ণা বেগমের কাছে হস্তান্তর করেন প্যানেল চেয়ারম্যান বকুল মিয়া। অভিযোগ ওঠে—তিনি বেশ কয়েকজন প্রকৃত উপকারভোগীকে স্লিপ না দিয়েই তাদের নামে চাল উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন।

প্রতিবন্ধী নাজমুল ইসলাম, বিধবা রওশন আরা, শাহানা, ছাবেরা, রোকসানা, জিরামনি, আয়ুব আলীসহ বহু ভুক্তভোগী জানান, তালিকায় নাম থাকলেও তারা কোনো স্লিপ পাননি। ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে জানতে পারেন—তাদের নামে চাল উত্তোলন দেখানো হয়েছে। এছাড়া পূর্বে ভাতা, রেশন কার্ড ও ৪০ দিনের কর্মসূচির কাজ দেওয়ার নামেও ঝর্ণা বেগম টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগের পর উপজেলা প্রশাসন প্রথমে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। তবে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় এবং তড়িঘড়ি প্রতিবেদনের অভিযোগে প্রধান তদন্তকারী পুনঃতদন্তের আবেদন করেন। পরে ইউএনও নতুন উচ্চতর তদন্ত কমিটি গঠন করেন।

উচ্চতর কমিটি ভুক্তভোগীদের লিখিত ও ভিডিও জবানবন্দী, ইউপি চেয়ারম্যানের ব্যাখ্যা, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ও গ্রাম পুলিশের বক্তব্য গ্রহণ করে। এতে উঠে আসে— ঝর্ণা বেগম প্রথম জবাবে দাবি করেন, গ্রাম পুলিশকে সঙ্গে নিয়েই স্লিপ বিতরণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় জবাবে জানান, ৩০টি স্লিপ সংরক্ষিত মহিলা সদস্য শম্পা বেগমকে দিয়েছেন। কিন্তু গ্রাম পুলিশ ও শম্পা বেগম লিখিতভাবে জানান—এগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট; তারা স্লিপ বিতরণের বিষয়ে কিছুই জানতেন না। ঝর্ণা বেগমের বক্তব্যের সঙ্গে অন্যদের জবানবন্দী সাংঘর্ষিক হওয়ায় অনিয়ম নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

উল্লেখ্য, ঝর্ণা বেগমের বিরুদ্ধে এটি প্রথম অভিযোগ নয়। ২০২২ ও ২০২৩ সালে রেশন কার্ড, ভাতা ও সরকারি বরাদ্দ আত্মসাত–সংক্রান্ত অভিযোগ বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এসব অভিযোগের লিখিত নথিও ইউএনও কার্যালয়ে সংরক্ষিত রয়েছে। ভুক্তভোগীরা দাবি করেন, তখন প্রভাবশালীদের চাপ ও মামলার ভয় দেখিয়ে অভিযোগ প্রত্যাহারে বাধ্য করা হয়েছিল।

গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, “সাময়িক বরখাস্ত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সব দায়িত্ব শম্পা বেগমকে চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে।”

এলাকাবাসীর দাবি—বছরের পর বছর তারা সরকারি বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এবার বরখাস্তের সিদ্ধান্তে স্বস্তি প্রকাশ করলেও তারা বলেন—শুধু বরখাস্ত নয়, ঝর্ণা বেগমের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা এবং আত্মসাৎ করা চাল ও সুবিধা পুনরুদ্ধার করতে হবে।

আরও খবর

Sponsered content