সারাদেশ

​রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে ‘গোপন’ নিয়োগ উৎসব: বিধি লঙ্ঘন করে ৬০ জনের চাকরি

  রাজশাহী প্রতিনিধি: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ৭:৩৩:৫৯ প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের শিক্ষা প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ ছাড়পত্র ছাড়াই চতুর্থ শ্রেণির বিভিন্ন পদে প্রায় ৬০ জন দৈনিক মজুরিভিত্তিক (ডে লেবার) কর্মীকে স্থায়ী নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে।

অভিযোগ রয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের আপিল মামলা নং ৩০০/২০১৫-এর রায় এবং বোর্ডের নিজস্ব প্রবিধান উপেক্ষা করে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রায়ে বলা ছিল, শূন্য পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং দৈনিক মজুরদের বয়স শিথিল করে অগ্রাধিকার দিতে হবে। কিন্তু কোনো প্রকার উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

এছাড়া বোর্ডের প্রবিধান ‘এসআর-৬৫’-এর ২ নম্বর ধারা অনুযায়ী নিয়োগের ক্ষেত্রে সিলেকশন কমিটির সুপারিশ বাধ্যতামূলক। অভিযোগকারীদের দাবি, এই ক্ষেত্রে তা অনুসরণ করা হয়নি। বোর্ডের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের না জানিয়ে চেয়ারম্যান ও সচিবের কক্ষে বসেই নিয়োগপত্র ও যোগদানপত্র প্রদান করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সূত্র জানায়, ‘মামুন’ নামের এক দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মী এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছেন। তার মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন এবং বোর্ড সভার রেজুলেশন প্রস্তুত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগপত্রে ব্যবহৃত স্মারক নম্বর (৭৪৯ ও ৭৫০) বোর্ডের ডিসপ্যাচ রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত নেই বলেও দাবি করা হয়েছে, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বোর্ডের ভেতরে গুঞ্জন রয়েছে, এই নিয়োগের বিপরীতে বড় অঙ্কের অবৈধ আর্থিক লেনদেন হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্তদের অধিকাংশই পূর্ববর্তী সরকারের আমলে দৈনিক মজুর হিসেবে যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর ড. শামীম আরা চৌধুরী বলেন, “ফ্যাসিস্ট বিদায়ের পর আমরা শিক্ষা বোর্ডে সংস্কার আনতে কাজ করছি। বোর্ড চেয়ারম্যান তার ক্ষমতাবলে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ দিতে পারেন, যা বোর্ড সভায় অনুমোদিত হয়েছে। নিয়ম মেনেই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। যারা সুবিধা করতে পারেননি, তারাই অপপ্রচার চালাচ্ছেন।”

রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আখম মোফাকখারুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগে অভিযুক্ত দৈনিক মজুর ‘মামুন’-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

এ ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও খবর

Sponsered content