হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ৬ মার্চ ২০২৬ , ৭:০৯:২৫ প্রিন্ট সংস্করণ
জীবন কখনও মানুষকে এমন এক মোড়ে দাঁড় করায়, যেখানে সামনে কেবল অন্ধকারই দেখা যায়। কিন্তু সেই অন্ধকার ভেদ করে কেউ যদি আলো হয়ে পাশে দাঁড়ায়, তখন সেই মুহূর্তটি হয়ে ওঠে আশার গল্প। ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের নিশ্চিন্তপুর এলাকার সংগ্রামী নারী আসমা বেগমের জীবনেও তেমনই এক মানবিক গল্পের জন্ম হয়েছে।
গরু, মুরগি ও কবুতর পালনের ছোট্ট আয়ের ওপরই নির্ভর করত আসমার সংসার। সেই উপার্জনের টাকাতেই চলত পরিবারের খরচ এবং দুরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত মায়ের চিকিৎসা। কিন্তু হঠাৎ করেই বিপর্যয় নেমে আসে তার জীবনে।
লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত হয়ে একে একে মারা যায় আসমার তিনটি গরু—যেগুলো ছিল তার সংসারের একমাত্র ভরসা। ফলে হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে যায় আয়ের পথ, থমকে যায় মায়ের চিকিৎসাও।
অসহায় হয়ে কয়েকদিন আগে আসমা ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে নিজের দুর্দশার কথা জানান। সেদিন জেলা প্রশাসক ইসরাত ফারজানা তাকে আশ্বস্ত করেন এবং তার পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন।
এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকেলে জেলা প্রশাসক ইসরাত ফারজানা হঠাৎই আসমার ভাঙা গোয়ালঘরে উপস্থিত হন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাইরুল ইসলাম এবং সমাজসেবা দফতরের কর্মকর্তারা।
সেখানে সমাজসেবা অধিদপ্তরের বিশেষ তহবিল থেকে গরু কেনার জন্য আসমা বেগমের হাতে ৫০ হাজার টাকার একটি চেক তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা এবং বসতঘর মেরামতের জন্য ভবিষ্যতে সহায়তার আশ্বাসও দেওয়া হয়।
চেক হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন আসমা বেগম। অশ্রুসিক্ত চোখে তিনি বলেন, “এই টাকায় একটা গরু কিনব, ঘরটা একটু ঠিক করব, আর মায়ের চিকিৎসা আবার শুরু করব।”
জেলা প্রশাসক ইসরাত ফারজানা বলেন, “কিছুদিন আগে আসমা আমার কাছে এসে তার কষ্টের কথা জানিয়েছিলেন। তিনি পরিশ্রম করে সংসার চালান। কিন্তু গরুগুলো মারা যাওয়ায় তিনি বিপদে পড়েছেন। তার মা অসুস্থ এবং বসতঘরের অবস্থাও ভালো নয়। তাই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে কিছু সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও আমরা পাশে থাকার চেষ্টা করব।”
স্থানীয়দের মতে, প্রশাসনের এই মানবিক উদ্যোগ শুধু আর্থিক সহায়তা নয়; এটি একজন সংগ্রামী নারীর জীবনে নতুন করে স্বপ্ন দেখার সাহস জুগিয়েছে।
নিশ্চিন্তপুরের মানুষের কাছে তাই ভাঙা সেই গোয়ালঘরের বিকেলটি এখন এক মানবিক গল্প—যেখানে সহানুভূতি ও দায়িত্ববোধ মিলে নতুন করে লিখেছে আসমার আশার দিনলিপি।




















