খেলাধুলা

ল্যাথাম-কনওয়ের জোড়া সেঞ্চুরিতে ইতিহাস, উইন্ডিজের পাহাড়সম লক্ষ্য

  প্রতিনিধি ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৪:৪৫:২৩ প্রিন্ট সংস্করণ

প্রথম ইনিংসে দুর্দান্ত জোড়া সেঞ্চুরির পর চতুর্থ দিনে দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যাট হাতে দাপট দেখালেন টম ল্যাথাম (১০১) ও ডেভন কনওয়ে (১০০)। বে ওভালে টেস্টের দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করা ইতিহাসের প্রথম ওপেনিং জুটি হিসেবে নিজেদের নাম লেখালেন এই দুজন। এরপর রাচিন রবীন্দ্র (৪৬*) ও কেইন উইলিয়ামসনের (৪০*) ঝোড়ো ক্যামিওতে ভর করে নিউজিল্যান্ড মাত্র ৫৪ ওভারে ২ উইকেটে ৩০৬ রান করে ইনিংস ঘোষণা করে। ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪৬২ রান। জবাবে জন ক্যাম্পবেল ও ব্র্যান্ডন কিং শুরুটা ভালোভাবে সামলে নিয়ে দিন শেষে ৪৩ রানে অপরাজিত থাকেন।

সকালের শুরুতে জ্যাকব ডাফি রাতের অপরাজিত ব্যাটার অ্যান্ডারসন ফিলিপকে দুর্দান্ত এক বলে আউট করেন-যার ছোঁয়া লেগে বল চলে যায় টম ব্লান্ডেলের গ্লাভসে। পরের ওভারেই শাই হোপকে ফেরান ডাফি, যিনি পুল করতে গিয়ে ফাইন লেগে ক্যাচ দেন। কেভেম হজ ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৪০০ রানের গণ্ডি পার করান এবং জেডেন সিলসের সঙ্গে ২৯ রানের ছোট একটি জুটি গড়েন। তবে ৫৩ বল খেলে ১৫ রান করা সিলস আজাজ প্যাটেলের বলে কিপারের হাতে ক্যাচ দেন। পরে মাইকেল রে তার ইনিংসের দ্বিতীয় উইকেট নেন, যখন কেমার রোচও কিপারের হাতে ক্যাচ দেন। এতে ৪২০ রানে গুটিয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

১৫৫ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেন কনওয়ে ও ল্যাথাম। নতুন বলের সামনে প্রথম পাঁচ ওভার সাবধানী ব্যাটিং করেন তারা। ডাবল সেঞ্চুরির পর কনওয়ে সুযোগ পেলেই ওভারপিচড বল কাভার দিয়ে চালিয়ে রান তুলতে থাকেন। মধ্যাহ্নভোজের পর রস্টন চেজকে রিভার্স, প্যাডেল ও স্লগ-সুইপসহ নানা ধরনের সুইপ শটে আক্রমণ করেন দুই ওপেনার। লং অনের ওপর দিয়ে হাঁকিয়ে কনওয়ে নিজের ফিফটি পূর্ণ করেন, আর ল্যাথামও চেজের ওভারে টানা বাউন্ডারি মারেন।

ল্যাথামের কাভার ড্রাইভে শতরানের জুটি পূর্ণ হয়। এরপর সিলসকে টেনে চার ও ছক্কা মারেন তারা। দ্রুতই ফিফটি ছুঁয়ে ফেলেন ল্যাথাম এবং ৩২ ওভারের মধ্যেই ১৫০ রানের জুটি গড়ে ওঠে। কনওয়ে নব্বইয়ের ঘরে কিছুটা ধীরগতিতে এগোলেও চা-বিরতির আগের শেষ ওভারে শতক পূর্ণ করেন। এরপরই গিয়ার বদলে ল্যাথাম একটি ওভারে ছয় ও দুটি চার মেরে ১৮ রান নেন। মধ্য সেশনে মাত্র ২৮ ওভারে ১৫৭ রান তোলে নিউজিল্যান্ড।

চা-বিরতির তিন বল পর গভীর থেকে অসাধারণ ক্যাচ নিয়ে কনওয়েকে ফেরান সিলস, বোলার হজ। পরের ওভারেই সিরিজে নিজের তৃতীয় শতক পূর্ণ করেন ল্যাথাম, তবে তিনিও পরের ওভারে হজের বলে সিলসের হাতে দুর্দান্ত ক্যাচে আউট হন। এরপর উইলিয়ামসন কিছু বাউন্ডারি মারেন, আর রাচিন রবীন্দ্র চারটি ছক্কা হাঁকিয়ে ৪৬ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। রবীন্দ্র ও উইলিয়ামসন চেজের এক ওভারে তিনটি ছক্কা মেরে ২১ রান নেন। দ্রুতই ৫০ রানের জুটি হয় এবং ৩০০ পার করেই ইনিংস ঘোষণা করে স্বাগতিকরা।

শেষ দিকে ভালো ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে ১৬ ওভার টিকে থাকতে নেমে ইতিবাচক শুরু করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ব্র্যান্ডন কিং জ্যাক ফোল্কসের ওভারে তিনটি বাউন্ডারি মারেন এবং পরে ডাফির বিরুদ্ধেও একই কাজ করেন। কিং দ্রুত রান তুললেও ক্যাম্পবেল বেশিরভাগ বল ছেড়ে ও ডেড ব্যাট করে খেলেন। পঞ্চম দিনের আগে ক্যাম্পবেল ৫০ বলে ২ রানে ও কিং ৪৭ বলে ৩৬ রানে অপরাজিত আছেন। জয়ের জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রয়োজন আরও ৪১৯ রান, আর ম্যাচে এখনো তিনটি ফলই সম্ভব।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

নিউজিল্যান্ড ৫৭৫ (ডেভন কনওয়ে ২২৭, টম ল্যাথাম ১৩৭; জাস্টিন গ্রিভস ২–৮৩) ও ৩০৬/২ ডিক্লেয়ার্ড (টম ল্যাথাম ১০১, ডেভন কনওয়ে ১০০; কেভেম হজ ২–৮০)

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৪২০ (কেভেম হজ ১২৩*, ব্র্যান্ডন কিং ৬৩; জ্যাকব ডাফি ৪–৮৬, আজাজ প্যাটেল ৩–১১৩) ও ৪৩/০ (ব্র্যান্ডন কিং ৩৭*, জন ক্যাম্পবেল ২*)

নিউজিল্যান্ড এগিয়ে ৪১৮ রানে

আরও খবর

Sponsered content