মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি ৪ ডিসেম্বর ২০২৫ , ২:৪০:৪১ প্রিন্ট সংস্করণ
ভারত থেকে নেমে আসা সোনাই নদী এখন যেন সিলিকা বালুর অবৈধ খনি। হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় চলছে কোটি টাকার সিলিকা বালু লুটপাট। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হলেও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চৌমুহনী ইউনিয়নের আলাবক্সপুর, মঙ্গলপুর, অলিপুর, মহব্বতপুর ও হরিণখোলা এলাকাজুড়ে নদীপাড়ে ১৮–২০টি বিশাল বালুর স্তূপ গড়ে উঠেছে। এসব স্থানে প্রায় ২ থেকে ৩ লাখ ঘনফুট সিলিকা বালু মজুদ রয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় দেড় থেকে দুই কোটি টাকা। অভিযোগ রয়েছে—ইতোমধ্যে প্রায় এক লাখ ঘনফুট বালু নদী থেকে তুলে পাচার করা হয়েছে, যার মূল্য এক কোটি টাকারও বেশি।
স্থানীয়রা বলছেন, খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, উপজেলা প্রশাসন বা ভূমি অফিস—কোনো দপ্তর থেকেই এই বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী অবৈধভাবে তোলা বালু জব্দ করে প্রক্রিয়াগত প্রতিবেদনের মাধ্যমে খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো উচিত, কিন্তু এ প্রক্রিয়া পুরোপুরি উপেক্ষিত।
অভিযোগ আছে, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি, ব্যবসায়ী এবং প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তারা কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে এই অবৈধ বালু তোলার কাজে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করছেন। এতে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হওয়ার কথা থাকা কোটি টাকার রাজস্ব হারিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর মিয়া বলেন, “আমি বালু জব্দ ও নিলামের জন্য খনিজ মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছি, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রভাবশালী একটি চক্র ইচ্ছাকৃতভাবে বিষয়টি আটকে রেখেছে।”
স্থানীয় বিএনপি নেতা সোহেল মাহমুদ বলেন, “সরকারের কোটি টাকার রাজস্ব লোপাট হচ্ছে। অথচ প্রশাসন চুপ হয়ে বসে আছে। আমি প্রতিবাদ করায় আমার বিরুদ্ধেই মামলা দিয়ে ভয় দেখানো হচ্ছে।”
এদিকে স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “এভাবে অবৈধ বালু তোলা চলতে থাকলে নদীভাঙন, রাস্তা-ঘাট ধ্বংস ও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হবে।”
যোগাযোগ করা হলে মাধবপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মজিবুল ইসলাম বলেন, “এগুলো সিলিকা বালু কি না—আমরা এখনো নিশ্চিত নই। তবে কেউ অবৈধভাবে বালু তুললে তথ্য পেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। যদি কোনো কর্মকর্তা এ কাজে জড়িত থাকেন, প্রমাণ পেলে তাঁর বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে সোনাই নদীর বালু লুটপাট নিয়ে এলাকায় চলমান সমালোচনার প্রেক্ষিতে স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলেছেন—কোটি টাকার বালু পাচার হচ্ছে, অথচ প্রশাসনের চোখ এখনো বন্ধ কেন?




















