সোহেল খান দূর্জয় , নেত্রকোনা ॥ ৬ জানুয়ারি ২০২৬ , ৮:০০:৫৬ প্রিন্ট সংস্করণ
পিতৃপরিচয় ও ন্যায্য অধিকার আদায়ের দাবিতে নেত্রকোনা জেলা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী সন্তান আলফি শারিন আরিয়ানা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আলফি শারিন আরিয়ানা বলেন, তিনি দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে পিতৃপরিচয়ের দাবিতে লড়াই করে যাচ্ছেন। তাঁর জন্ম ১৮ সেপ্টেম্বর ২০০০ সালে। তাঁর পিতা আব্দুল আউয়াল হিমেল এবং মাতা মনিরা আহমেদ। এক বুক কষ্ট ও বঞ্চনার ইতিহাস নিয়ে তিনি গণমাধ্যমের সামনে উপস্থিত হয়েছেন বলে জানান।
তিনি অভিযোগ করেন, জন্মদাতা পিতা পাশে থাকা তো দূরের কথা, বর্তমানে সমাজের কাছে তাঁর অস্তিত্বই অস্বীকার করছেন। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “আমি কেন সমাজের কাছে অবহেলিত ও অবজ্ঞার পাত্র হব? কেন বারবার আমার পরিচয় ও ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে?”
আলফি শারিন আরিয়ানা আরও বলেন, জন্মের পর থেকে একজন বাবা হিসেবে যে ন্যূনতম দায়িত্ব পালন করার কথা ছিল, তা তাঁর পিতা কখনোই করেননি। ২০০৬ সালে তাঁর মা-বাবার বিবাহবিচ্ছেদ হয়। আদালতের নির্দেশে ২০১২ সাল পর্যন্ত নামমাত্র এক হাজার টাকা করে ভরণপোষণ দেওয়া হলেও পরে আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তাঁর দায়িত্ব গ্রহণ করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০১৭ সালে চোখের গুরুতর সমস্যার সময় বাবার বাড়িতে গেলে তাঁর দাদি ও বাবার দ্বিতীয় স্ত্রী তাঁকে বাড়িতে ঢুকতে বাধা দেন এবং দুর্ব্যবহার করেন। এরপর থেকে তাঁর পিতা যোগাযোগ বন্ধ করে দেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন স্থানে তাঁর অস্তিত্ব অস্বীকার করতে থাকেন বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বর্তমানে তিনি পুনরায় আদালতের আশ্রয় নিলেও তাঁর পিতা রাজনৈতিক ও আর্থিক প্রভাব খাটিয়ে আদালতে হাজির হননি। মামলার কার্যক্রমে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
আলফি শারিন আরিয়ানা দাবি করেন, তাঁর পিতা বর্তমানে রাজধানীতে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন এবং বিদেশে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। তিনি প্রশ্ন রাখেন, “যদি আমি তাঁর সন্তান না হই, তাহলে দীর্ঘ ১৭ বছর কেন ভরণপোষণ দেওয়া হয়েছে?”
সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে তিনি বলেন, তাঁর মা দীর্ঘদিন কষ্ট করে তাঁকে বড় করেছেন। কিন্তু একজন বাবা যখন নিজের সন্তানকে অস্বীকার করেন এবং ন্যায়বিচারের পথ রুদ্ধ করেন, তখন গণমাধ্যমের শরণাপন্ন হওয়া ছাড়া তাঁর আর কোনো উপায় ছিল না। তিনি তাঁর পিতৃপরিচয়, সামাজিক স্বীকৃতি ও ন্যায্য অধিকার আদায়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।




















