বিনোদন ডেস্ক : ৯ জানুয়ারি ২০২৬ , ৩:৩২:২০ প্রিন্ট সংস্করণ
৬০ কোটি টাকার প্রতারণা মামলার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার নতুন করে বড় ধরনের আইনি চাপে পড়লেন বলিউড অভিনেত্রী শিল্পা শেঠির স্বামী রাজ কুন্দ্রা। এবার তাঁর নাম জড়াল ১৫০ কোটিরও বেশি টাকার বিটকয়েন কেলেঙ্কারিতে। সংশ্লিষ্ট মামলায় ইতিমধ্যেই চার্জশিট দাখিল করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)।
ইডি সূত্রে জানা গেছে, রাজ কুন্দ্রার কাছে বর্তমানে ১৫০ দশমিক ৪৭ কোটি রুপি মূল্যের মোট ২৮৫টি বিটকয়েন রয়েছে। অভিযোগ, এই বিপুল পরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সি তিনি ইউক্রেনে বিটকয়েন মাইনিং প্রকল্প চালুর উদ্দেশ্যে ‘গেইন বিটকয়েন’ পঞ্জি স্ক্যামের মাস্টারমাইন্ড ভরদ্বাজ গোষ্ঠীর কাছ থেকে গ্রহণ করেছিলেন।
যদিও শুরুতে রাজ কুন্দ্রা নিজেকে কেবল একজন ‘মধ্যস্থতাকারী’ হিসেবে দাবি করেছিলেন, তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। ইডির দাবি, প্রস্তাবিত মাইনিং প্রকল্পটি বাস্তবায়িত না হলেও বিটকয়েনগুলো কুন্দ্রার দখলেই থেকে যায়।
এই মামলার প্রেক্ষিতেই রাজ কুন্দ্রাকে তলব করেছে ইডি। আগামী ১৯ জানুয়ারি আদালতে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাঁকে।
তদন্তকারীদের মতে, ২০১৭ সালে অজয় ভরদ্বাজ, মহেন্দর ভরদ্বাজ ও অমিত ভরদ্বাজ ‘ভেরিয়েবল টেক প্রাইভেট লিমিটেড’ নামে একটি সংস্থা গড়ে তোলেন। এই সংস্থার মাধ্যমেই চালু করা হয় ‘গেইন বিটকয়েন’ নামের একটি পঞ্জি স্কিম। বিনিয়োগকারীদের বিটকয়েনে বিনিয়োগের বিপরীতে মাসে ১০ শতাংশ হারে উচ্চ মুনাফার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হতো।
এই প্রলোভনে পড়ে বহু বিনিয়োগকারী অর্থ বিনিয়োগ করেন। তবে প্রতিশ্রুত লাভ তো দূরের কথা, বিপুল অঙ্কের অর্থ উধাও হয়ে যায়। পরবর্তীতে দিল্লি ও মহারাষ্ট্রে একাধিক এফআইআর দায়ের হলে পুরো কেলেঙ্কারির পর্দাফাঁস হয়।
ইডির দাবি, এই স্কিমের মাধ্যমে প্রায় ৬ হাজার ৬০০ কোটি রুপি প্রতারণা করা হয়েছে এবং এই বেআইনি কার্যক্রমে রাজ কুন্দ্রার সক্রিয় ভূমিকা ছিল।
তদন্ত সংস্থা আরও অভিযোগ করেছে, একাধিকবার তলব করা হলেও রাজ কুন্দ্রা তাঁর ডিজিটাল ওয়ালেটের ঠিকানা কিংবা বিটকয়েন সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ হিসাব আদালতে জমা দেননি। ইচ্ছাকৃতভাবেই অর্থের উৎস গোপন করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি ইডির।
উল্লেখ্য, রাজ কুন্দ্রার বিরুদ্ধে আইনি বিতর্ক নতুন নয়। এর আগেও আইপিএল বেটিং কেলেঙ্কারি, পর্নোগ্রাফি সংক্রান্ত মামলা এবং ৬০ কোটি টাকার আর্থিক তছরূপের অভিযোগে তাঁকে তদন্তের মুখে পড়তে হয়েছে। এবার বিটকয়েন কেলেঙ্কারির অভিযোগে তাঁর আইনি চাপ আরও বাড়ল।





