শেখ শোভন আহমেদ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ৮:০৩:১৬ প্রিন্ট সংস্করণ
কাশিয়ানী উপজেলা-তে সামাজিক বনায়নের প্রায় অর্ধশত মূল্যবান গাছ রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে গেছে। কীভাবে ও কারা রাতারাতি এসব গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে—তা জানেন না জেলা বন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কোনো সরকারি দপ্তর। এ ঘটনায় উপজেলা জুড়ে সাধারণ ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক-এর কাশিয়ানী উপজেলার ভাটিয়াপাড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে গোপালপুর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে সামাজিক বনায়নের আওতাধীন প্রায় ৫০টির মতো গাছ অবৈধভাবে কেটে বিক্রি ও পাচার করেছে একটি কুচক্রী মহল। কর্তনকৃত গাছগুলোর মধ্যে রেইনট্রি, গামারি ও একাশিসহ উন্নত মানের বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১০ লাখ টাকারও বেশি বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
সবচেয়ে বেশি গাছ কাটা হয়েছে উপজেলার ঘোনাপাড়া এলাকায়। প্রতিটি গাছ মাটি থেকে প্রায় দুই ফুট বা তার কিছুটা কম অংশ রেখে কাটা হয়েছে। রেখে যাওয়া গাছের গোড়া দেখে স্পষ্ট বোঝা যায়, হাত করাত বা বিদ্যুৎচালিত করাত ব্যবহার করেই গাছগুলো কাটা হয়েছে। উল্লেখ্য, মহাসড়কের নির্দিষ্ট পরিমাপের মধ্যে থাকা এসব গাছের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব বন বিভাগের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কিছু গাছ ব্যবসায়ী ও স মিলের মালিকরা দিনে ও রাতে বিদ্যুৎচালিত করাত ব্যবহার করে গাছ কাটে। পরে ডালপালা ও গাছের মূল অংশ ভ্যান ও টলির মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হয়।
এদিকে স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, গোপালগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-এর আওতাধীন কাশিয়ানী এলাকায় কর্মরত কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীও মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ লাইনের সীমানার বাইরের গাছ কেটে ফেলেন। কাটা গাছ রাস্তার পাশে ফেলে রাখা হলে স্থানীয় গাছ ব্যবসায়ীরা সেগুলো নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে দেন।
উপজেলার তিলছাড়া বাজারের ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “গত পরশু বিদ্যুৎ অফিসের দুজন লোক আমার দোকানের সামনে বিদ্যুৎচালিত করাত দিয়ে একটি বড় গাছ কাটে। আজও সকালে এসে দেখি গাছটি সেভাবেই পড়ে আছে। গাছটি বিদ্যুৎ খুঁটি থেকে প্রায় ১০ মিটার দূরে ছিল। বিদ্যুৎ অফিসের লোক আর গাছ ব্যবসায়ীদের কারণেই রাস্তার পাশের গাছগুলো শেষ হয়ে যাচ্ছে।”
উপজেলার সচেতন মহলের প্রশ্ন—বন বিভাগ কি এসব অনিয়ম দেখছে না, নাকি দেখেও না দেখার ভান করছে? বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা কেন লাইনের বাইরে গাছ কাটছে এবং কাটা গাছ ফেলে রেখে যাচ্ছে? আর অবৈধভাবে গাছ কেটে বিক্রি করা চক্রটি কতটা প্রভাবশালী যে তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না?
এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন কাশিয়ানী জোনাল অফিসের প্রধান ডিজিএম (কারিগরি) প্রকৌশলী কামাল হোসেন বলেন, “আমরা বা আমাদের কোনো কর্মী এত বড় গাছ কাটিনি। শুধু ডালপালা কাটা হয়েছে। তাছাড়া গাছগুলো আমাদের লাইনের বাইরের।”
অন্যদিকে, গোপালগঞ্জ জেলা বন কর্মকর্তা বিবেকানন্দ মল্লিক বলেন, “কাশিয়ানী উপজেলার কয়েকজন গাছ ব্যবসায়ী এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে খুব দ্রুতই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির লাইনের বাইরের বড় গাছ কাটার কোনো অধিকার নেই। এসব গাছ কাটতে হলে বন বিভাগের অনুমতি প্রয়োজন। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।”
সবকিছুর পরেও কাশিয়ানী উপজেলার সাধারণ মানুষ অবৈধভাবে গাছ কাটার সঠিক ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন। তারা মহাসড়কের দু’পাশে সবুজ বৃক্ষরাজি সংরক্ষণ করে প্রকৃতিকে সবুজ ও বাসযোগ্য করে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।




















