সারাদেশ

দুটি সেতুর অভাবে বিচ্ছিন্ন বেড়েরবাড়ী গ্রাম, চরম দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

  মোঃ রাশেদ মিয়া , স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া ৬ এপ্রিল ২০২৬ , ৯:৪৬:০৯ প্রিন্ট সংস্করণ

চারপাশে নদী আর খালের বেষ্টনী। মাঝখানে যেন এক বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। স্বাধীনতার কয়েক দশক পেরিয়ে গেলেও বগুড়ার ধুনট উপজেলার বেড়েরবাড়ী গ্রামে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। মাত্র দুটি স্থায়ী সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন এই জনপদের হাজারো মানুষ। ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো আর নৌকায় পারাপার হতে গিয়ে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা, চিকিৎসা ও কৃষি বিপণন।
​সরেজমিনে দেখা যায়, গ্রামবাসীর চলাচলের একমাত্র ভরসা একটি জরাজীর্ণ বাঁশের সাঁকো। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বেড়ে গেলে সাঁকোটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। তখন ছোট নৌকায় চড়ে ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হয় বৃদ্ধ, শিশু ও শিক্ষার্থীদের। স্থানীয় বাসিন্দা আরজিনা খাতুন আতঙ্ক মেশানো কণ্ঠে বলেন, “কয়েক বছর আগে নৌকা থেকে পড়ে গিয়ে আমার ভাতিজি মরতে মরতে বেঁচেছে। বাচ্চাদের স্কুলে পাঠিয়ে সারাক্ষণ দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়।”
যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় স্থানীয় স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি আশঙ্কাজনকভাবে কম। একজন স্থানীয় শিক্ষক আক্ষেপ করে বলেন, “বর্ষাকালে শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসতেই পারে না। একটি সেতুর অভাবে পুরো এলাকার শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।” অন্যদিকে, জরুরি অবস্থায় কোনো রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য নেই কোনো অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশের পথ। খাটিয়ায় করে রোগী নিয়ে নদী পার হতে গিয়ে অনেক সময় পথেই অবস্থার অবনতি ঘটে।
কৃষিপ্রধান এই এলাকায় উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে পরিবহন খরচ পড়ে দ্বিগুণ। ফলে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এছাড়া যাতায়াত বিড়ম্বনার কারণে এই গ্রামে আত্মীয়তা করতেও অনীহা প্রকাশ করেন বাইরের মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দা খলিল রহমান জানান, “রাস্তাঘাট আর ব্রিজের এই অবস্থার কারণে ছেলে-মেয়েদের বিয়ে দিতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।”
এলাকাবাসীর দাবি, বহুবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ধরনা দিয়েও মেলেনি স্থায়ী সমাধান। গ্রামবাসী মুক্তার পাইকার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা কি বাংলাদেশের নাগরিক না? আমাদের গ্রামটি সবচেয়ে অবহেলিত। দুটি পাকা সেতু হলে আমাদের ভাগ্য বদলে যেত।”

​এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, সেতু নির্মাণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে বলে তারা পুনরায় আশ্বাস দিয়েছেন।
​বেড়েরবাড়ী গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

আরও খবর

Sponsered content