মো: গোলাম কিবরিয়া, রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি ৪ নভেম্বর ২০২৫ , ৩:১৩:৫৯ প্রিন্ট সংস্করণ
রোববার (২ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় বাঘা পৌর এলাকার মিলিক বাঘা গ্রামের অনন্যা ওরফে মুন্নি (২৩) নামের গৃহবধূর মরদেহ তার বাড়িতে পৌঁছায়। শেষ বিদায় জানানোর জন্য খাটিয়ার পাশে আহাজারি করছিলেন স্বজনরা। বাদ আসরের নামাজ শেষে মরদেহ বাঘা কেন্দ্রীয় গোরস্থানে দাফন করা হয়।
মুন্নিকে শুক্রবার থেকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। শনিবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। ময়নাতদন্তের আগ পর্যন্ত মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়।
মুন্নির মা মনোয়ারা অভিযোগ করেন, তার মেয়েকে ডিজেল ঢেলে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে মেয়ের সঙ্গে শেষ কথোপকথনে মুন্নি জানিয়েছিল, “আমি আর নির্যাতনের যন্ত্রণা সহ্য করতে পারছি না।”
শনিবার সকালে মুন্নির শ্বশুর সহিদুল মাঝি ফোনে জানান, তার মেয়ে ডিজেল ঢেলে আগুন ধরিয়েছে। খবর পেয়ে মুন্নির মা-বাবা ঢাকা থেকে রাজশাহীতে ছুটে আসেন।
মুন্নির বাবা মাসুদ রানা জানান, প্রায় ১০ বছর আগে সুরুজ উদ্দীনের সঙ্গে মুন্নির বিয়ে হয়। তাদের সংসারে রয়েছে দুই সন্তান—জিহাদ (৮) ও সাবা বুড়ি (৪)। মাসুদ রানা অভিযোগ করেন, সুরুজ মাদকাসক্ত ছিলেন এবং যৌতুকসহ নানা বিষয়ে দাম্পত্য কলহ চলত। এসব কলহের জেরেই মুন্নির শরীরে ডিজেল ঢেলে আগুন লাগানো হয়।
তবে শ্বশুরবাড়ির দাবি, মুন্নি আত্মহত্যা করেছে। শনিবার ভোরে চিৎকার শুনে ঘরে গিয়ে তারা দেখেন, মুন্নির শরীরে ডিজেল ঢেলে সে নিজেই আগুন ধরিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, চিৎকার শুনে তারা সুরুজের বাড়িতে গিয়ে মুন্নিকে পোড়া ও বিবস্ত্র অবস্থায় দেখতে পান; তখন তার শরীর লুঙ্গি দিয়ে ঢাকা ছিল। তারা আরও জানান, সুরুজ মাদকাসক্ত এবং দাম্পত্য কলহ দীর্ঘদিন ধরে চলছিল।
মুন্নির ভাই মিঠু জানান, ঘটনার দিনই তিনি বাঘা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নম্বর-৪৫) করেছেন। তবে দাফনের আগে মামলা করা সম্ভব হয়নি, এখন মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।
বাঘা থানার ওসি আ ফ ম আছাদুজ্জামান বলেন, “অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”




















