তানভীর সরদার, স্টাফ রিপোর্টার ৪ ডিসেম্বর ২০২৫ , ২:৪২:৫২ প্রিন্ট সংস্করণ
ঝিনাইদহ শহরের পবহাটি গ্রামে এক হৃদয়বিদারক ঘটনায় নিখোঁজের প্রায় ১৩ ঘণ্টা পর প্রতিবেশীর ঘর থেকে সাড়ে তিন বছর বয়সী শিশু সাইমা আক্তার সাবার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে শিশুটির নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।
শিশু সাইমা পবহাটি গ্রামের সাইদুল ইসলামের মেয়ে। সকালে (বুধবার) বাড়ির পাশেই খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় এই ফুটফুটে শিশু। সকাল ৮টার দিকে পরিবারের পক্ষ থেকে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো খবর না পাওয়ায় সাইদুল ইসলাম ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
জিডি করার পর পুলিশ আশপাশের পুকুর, ফসলি জমি ও কাছের এলাকাগুলোতে অভিযান চালালেও শিশুটির কোনো সন্ধান মেলেনি। অবশেষে রাত সাড়ে ৯টার দিকে প্রতিবেশী মাসুদের ঘরের ভেতর থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঝিনাইদহ সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনোজ কুমার ঘোষ রাতে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “আমাদের প্রাথমিক ধারণা শিশুটিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।”
এই ঘটনায় যৌথ পুলিশ ও সেনাবাহিনীর অভিযানে প্রতিবেশী মাসুদের স্ত্রী শান্তনা খাতুন (৩০)–কে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সদর থানায় নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর পুরো পবহাটি গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ফুটফুটে কন্যাশিশুর হত্যায় এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ ও হতবিহ্বল। শিশুটির বাবা-মা কন্যাশোকে পাথর হয়ে গেছেন। স্থানীয়রা এ জঘন্য হত্যাকাণ্ডের দ্রুত তদন্ত এবং প্রকৃত খুনিকে শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন।
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মাসুদ বলেন, “শিশুটির মরদেহ পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত চলছে, খুব শিগগিরই হত্যার রহস্য উদঘাটন করা যাবে।”
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, আর সাধারণ মানুষ প্রত্যাশা করছে—অপরাধীরা দ্রুত আইনের আওতায় আসবে।




















